জেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের কমবেশি ৭০ জন নেতা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান মহারাজ, কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সম্পাদক এস এম মশিউর রহমান শিহাব, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম সরোয়ার ফোরকান, আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম দেলোয়ার হোসেন, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল কবির জমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান তনু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কে এম আব্দুর রশিদ, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আজিজুল হক স্বপন এবং বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান নান্টু।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই নেতাদের দাবি-দাওয়া শোনার পর তাদের বলেন, ওই আসনের সব খবরাখবর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
উল্লেখ্য, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আরও ৫১ জন ওই আসনে মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। কিন্তু দল থেকে শম্ভু ও জাহাঙ্গীর দুজনকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়। যদিও এর আগে মনোনয়নপ্রত্যাশী ৫১ জন একজোট হয়ে শম্ভুর মনোনয়নের বিরোধীতা করেন। তারা বলেন, বাকি যাকেই দেওয়া হবে, তারা একজোট হয়ে কাজ করবেন, কিন্তু শম্ভুকে মনোনয়ন দিলে তিনি এ আসনে জয়ী হতে পারবেন না। কেননা তিনি দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করেছেন, তাদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার বর্তমান এমপিকে বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে যান শম্ভুবিরোধীরা।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, ‘বরগুনা-১ আসনে দুইজনকে দলের পক্ষে থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জেলা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভুকে অপছন্দ করেন। দল একদিকে আর বর্তমান এমপি আরেকদিকে। আমরা জাহাঙ্গীর কবিরের সঙ্গে আছি। তাই তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এমপির পরিবর্তে নতুন মুখ চায় স্থানীয় জনগণসহ নেতাকর্মীরা। আমরা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করে আমাদের কথা জানিয়েছি।’
বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরগুনা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ালিউল্লাহ ওলি বলেন, ‘আমরা দলের পক্ষে কিছু কথা বলার জন্য এসেছিলাম। নির্বাচন আসবে, নির্বাচন যাবে, কিন্তু দল হচ্ছে বড় জিনিস। দলকে রক্ষা করার জন্য এই মুহূর্তে জাহাঙ্গীর কবিরের কোনও বিকল্প নেই এবং মানুষ পরিবর্তন চায়। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে, দল সঠিক সিদ্ধান্ত বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে সাংগঠনিকভাবে শক্তিরা বরগুনার মাটিতে শক্তিশালী হবে।’
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হ্যাটট্রিক জয়ের মিশনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দমন করতে হার্ডলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রবিবার (২ ডিসেম্বর) থেকে একই আসনে দুইজনকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে একজনকে রেখে আরেকজনের কাছে হাইকমান্ড থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশনা যাওয়া শুরু হয়েছে। গত শনিবার (১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠক হয়। বৈঠকে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় এবং দলীয় নেতাদের কার কী করণীয় বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এবার ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে ২৬৪টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ২৪৭টিতে আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিয়েছে এবং বাকি ১৭টি আসনে দুইজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মোট ২৮১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে।