মান্না বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আচরণ আমাদের সমাজে এই সন্দেহ প্রতিদিন আরও শক্তিশালী করছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিরোধী দলের জন্য পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হওয়ার প্রত্যাশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিদিন নতুন করে পরিস্থিতি আগের চাইতে আরও বেশি খারাপ হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হলে যে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে, তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব প্রশাসন ও পুলিশকে নিতে হবে। সবার মনে রাখা উচিত, এই সরকারই শেষ সরকার নয়।’
এই নির্বাচনের পরিবেশ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ধারেকাছেও নেই মন্তব্য করে মান্না বলেন, ‘একদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন তীব্র রয়ে গেছে। কথাগুলো আমাদের না, কথাগুলো বলা হয়েছে ব্রিটিশ এমপিদের জন্য তৈরি হাউস অব কমন্সের লাইব্রেরির গবেষণাপত্রের মূল্যায়নে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিয়মকানুনের প্রতি (রুলস অব গেম) সার্বিক আস্থার মাত্রা তলানিতে রয়ে গেছে।’
ঐক্যফ্রন্টকে মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না কেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, ‘এখন নানা প্রতিবন্ধকতা আছে এটা ঠিক। কিন্তু মার্কা বের হওয়ার পর আমাদের কেউ আটকাতে পারবে না। জনগণ তো মাঠে আছেই।’
লিখিত বক্তব্যে পুলিশ প্রশাসনে কর্মরতদের উদ্দেশে মান্না বলেন, ‘আপনারাও এই দেশের সন্তান। আপনারা নাগরিকদের করের টাকায় বেতন পান। আমরা এমন একটা রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি, যেখানে নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে তার সেবক হিসেবে পাবে এবং সবাই শান্তিতে সহাবস্থান করবে। কিন্তু সেই সহাবস্থানের জরুরি পূর্বশর্ত হলো, পুলিশ বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের যে হয়রানি করছে, সেটা এই মুহূর্তেই সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের একাকার হয়ে যাওয়া জনগণের মনে এই শঙ্কা তৈরি করছে যে, সরকার একটি নীলনকশার নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় থেকে যেতে চাইছে।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, ‘এই নীলনকশার অংশ হিসেবেই সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা দিয়ে অসংখ্য মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। অনেককে গুম করা হচ্ছে। অবিশ্বাস্যভাবে এই গ্রেফতারের তালিকায় অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছে। একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে হোটেল রুম থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়ার সংবাদও আমরা পেয়েছি। নির্বাচনের আর খুব কম সময় বাকি না থাকলেও এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনও কথা বলছে না।’
এ সময় বগুড়া বিএনপি-নাগরিক ঐক্য-জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কারাবন্দি সব নেতাকর্মীর দ্রুত মুক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান মান্না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সদস্য ফজলুর রহমান, শহিদুল্লাহ কায়সার, নজরুল ইসলাম, অতিকুর রহমান প্রমুখ।