খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করেই নির্বাচন করবে বিএনপি: আলাল

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত আশাবাদী খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।’ বুধবার (৫ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসাররা যাদের প্রার্থিতা প্রাথমিক পর্যায়ে বাতিল করেছেন, সেগুলোর বিরুদ্ধে আপিল চলছে। এ কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করা হয়েছে আগামী ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আমাদের পক্ষ থেকে বলেছি, এটা ৮ তারিখ পর্যন্ত না নিয়ে ৬ ও ৭ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করা যায় কিনা। অথবা নির্বাচন কমিশনের নিজেদের বিবেচনাপ্রসূত কোনও পদ্ধতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত হলে প্রার্থীদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। কারণ, ৯ ডিসেম্বর হচ্ছে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৮ তারিখ বিকাল ৫টা পর্যন্ত যদি এটি চলতে থাকে, তাহলে তা প্রার্থীদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।’

গ্রেফতার ও হয়রানির বাণিজ্য চলছে মন্তব্য করেন আলাল বলেন, ‘বাম্পার ফলন যেভাবে হয়, সেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও গ্রেফতারের বাম্পার ফলন শুরু করা হয়েছে। গতকালও একজন নারী কমিশনারসহ কয়েকজন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে গতকাল কোম্পানীগঞ্জে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গাড়িতে সশস্ত্র হামলা করা হয়েছে। সেটিও ইসিকে জানিয়েছি। পাশাপাশি গ্রেফতার বাণিজ্য বন্ধের জন্য নির্বাচন কমিশনকে জরুরি পদক্ষেপ নিতেও বলেছি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আরপিও’র কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে আমরা বলেছি, এবার যেখানে জোটভুক্ত নির্বাচন করার ব্যবস্থা রয়েছে, জোটের পক্ষ থেকে একটি প্রতীকই দেওয়া হবে। সে একটি প্রতীক দেওয়ার ব্যাপারে জোটভুক্ত প্রার্থীরা থাকবেন। একজনই চূড়ান্ত হবেন। আমরা জানতে চেয়েছি, বাকি যারা থাকবেন, তাদের চিঠি দিয়ে জানাতে হবে নাকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে? তারা বলেছেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে যাবে। আর কোথাও যদি কেউ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, এমন কেউ জোটে থেকে থাকেন, তাদের মধ্যে যদি কেউ কোথাও আলাদাভাবে জমা দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে এমন প্রার্থীদের চিঠি দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে হবে। চিঠিটা তার দল থেকেই দিতে হবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নিবন্ধিত ৮টি দল ছিল উল্লেখ করে আলাল বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে সেখানে ১১টি দল হয়েছে। সে সম্পর্কিত একটি চিঠি তাদের আগে দিয়েছিলাম। সেই চিঠির বিষয় তাদের আবার মনে করিয়ে দিয়েছি। যেন নির্বাচন কমিশন যে প্রচণ্ড কর্মযজ্ঞের মধ্যে আছে, কোনও ধরনের ত্রুটির কারণে এ জিনিসটির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি না হয়।’

এ পর্যন্ত যতগুলো চিঠি দিয়েছেন তার কতগুলোর প্রতিকার পেয়েছেন বা আপনারা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থাশীল কিনা, জানতে চাইলে আলাল বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি যদি আস্থাশীল থাকতাম, তাহলে তো সরকারে এখন যারা আছেন, সরকারের প্রতিনিধিদের মতো এক মাস পরে একদিন আসতাম। আমাদের তো প্রতিদিনই আসতে হচ্ছে। সরকার ক্ষমতায় থেকে এই প্রথম বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। ২০১৪ সালেরটা অংশগ্রহণমূলক ছিল না। যেহেতু পরিস্থিতি ভিন্ন, নির্বাচন কমিশন ছাড়া আমাদের অন্য কোনও জায়গা নেই, সুতরাং আস্থা থাকা না থাকার চেয়েও বড় প্রশ্ন তো হচ্ছে, আমরা যাবো কোথায়? আমাদের তো এখানেই আসতে হবে। সেজন্যই আসা।’

এক প্রশ্নের জবাবে আলাল বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় আমাদের যে প্রার্থীরা রয়েছেন বা জোটভুক্ত যে দলগুলো রয়েছে, তাদের নিজেদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও কিন্তু সব জায়গায় একটিই বাধা। যেটার কথা আমি বলেছি। একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আছে এবং সেখানে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। সুতরাং অনেকেই ইচ্ছামতো বা সময়মতো নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। পদে পদে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। আরেকটু সময় পেলে বাধাটা অতিক্রম করার সুযোগটা থাকে।’

একই আসনে একাধিক প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে একক প্রার্থী বাছাইয়ে কোনও সমস্যা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের নিষ্পত্তি করতে কোনও অসুবিধা হবে না। আমরা বলেছি এ কারণে যে, মহাসচিব বারবার বলার পরেও কোনও একটি জেলার রিটার্নিং অফিসার তার স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে আমরা বৈষম্যের শিকার হতে পারি।’ আশঙ্কাটা তাদের মধ্যে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।