আপনারা অনেক দিন ধরে সেনাবাহিনী চাইছেন নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য। কিন্তু সেনাবাহিনী থাকার পরও আজ সারাদেশে কয়েক জায়গায় হামলার ঘটনা ঘটেছে— এ বিষয়ে সাংবাদিকরা মন্তব্য জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আজকে সেনাবাহিনী এসেছে। অতীতে সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। সেই আশার পুনরাবৃত্তি করছি আমরা। তারা (সেনাবাহিনী) এসেছে, আজকের দিনটা গেলেও, ঠিকই বলেছেন যে এখনও তো ঘটনাগুলো (হামলা) ঘটছে। এগুলো একদমই অপ্রত্যাশিত। সেই কারণে আমরা বলছি, সেনাবাহিনীর অতীত ইতিহাস আছে, তারা নিজেরা নিরপেক্ষ থেকেছে এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করেছে। সেই ঐতিহ্যকে তারা ধরে রাখবে বলেও আমরা আশা করছি।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ শেষ পর্যন্ত আমরা নির্বাচনের মাঠে থাকবো।’
ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমার বিশ্বাস জনগণ যখন পরিবর্তনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, ফলে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটবে। আর মাত্র ২৩ বছর পর আমরা ২০২১ সালে দেশের স্বাধীনতা ৫০ বছরপূর্তি পালন করতে যাচ্ছি। সে দিন আমরা যাতে বলতে পারি, এমন একটি সরকার পেয়েছি, যারা সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে।’
গণবিরোধী শক্তি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বন্ধ করার পাঁয়তারা করছে বলে দাবি করে কামাল হোসেন বলেন, ‘আশা করি সেনাবাহিনী প্রশাসন এই গণবিরোধীদের রুখে দেবে।’
বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনকে একটা তামাশায় পরিণত করেছে। মানুষ যে ধরনের নির্বাচন দেখতে চায়, সেই নির্বাচন তারা করতে চাইছে না। সরকার ও নির্বাচন কমিশন ক্রমে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করছে।’
২৭ ডিসেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতির পয়েছে কিনা জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘এখনও আমরা অনুমতি পাইনি।’
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। লিখিত বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর থেকে যে সংঘাতময় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। বরং প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সহিংসতা। বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়নের পরও পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নত হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা পালনকারী আমাদের গর্ব সেনাবাহিনী বিশ্বব্যাপী শান্তি মিশনে কৃতিত্বের সঙ্গে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশে নিরাপদ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতি তাদের কাছ থেকে সেই ভূমিকা প্রত্যাশা করে।’
সরকারি দল, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, প্রশাসন ও আইন-আদালত সবকিছুই যেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিপক্ষ বলেও উল্লেখ করেন কামাল হোসেন।
সারাদেশে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত ২৫ জন প্রার্থীর ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন কামাল হোসেন। এসব হামলায় হাজারো নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং বেশকিছু গাড়ি ভাংচুর করা হয় বলেও দাবি করা হয় লিখিত বক্তব্যে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিকল্পধারা একাংশের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ব্যাপারী প্রমুখ।