২৪ ঘণ্টায় এক হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেফতার, দাবি রিজভীর

রুহুল কবির রিজভী

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বিএনপি জোটের এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র ‍যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘গত ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট গ্রেফতার ১১ হাজার ৫০৬ জন। গায়েবি ও মিথ্যা মামলা হয়েছে ৯৫৭টি। শুধু গতকালই (শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর) বিভিন্ন জেলায় বানোয়াট মামলা দায়ের হয়েছে ৫৯টি, গ্রেফতার করা হয়েছে এক হাজার ১৭৭ জন নেতাকর্মীকে।’

শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

রিজভী বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণায় ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

রাত পোহালেই একাদশ সংসদ নির্বাচন, উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করে জনগণের সঙ্গে প্রতিমুহূর্তে বিশ্বাসঘাতকতা করে ক্ষমতাসীনরা জবরদস্তিমূলকভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। আর এজন্য তাদের সামনের বাধাগুলো সরিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি। প্রথমে তারা সবচেয়ে বড় বাধা মনে করেছে খালেদা জিয়াকে। তাকে অন্যায়ভাবে বন্দি করা হয়েছে। বন্দি করে এখন নানাভাবে জুলুম করা হচ্ছে। আমরা তখনই বলেছিলাম—নির্দোষ খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করা ছিল একতরফা নির্বাচনের পূর্বাভাস।’

রিজভী অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হামলা ও গ্রেফতার হিড়িকের ধারাবাহিকতায় গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে এর মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছে চরম মাত্রায়। তফসিল ঘোষণার পর মামলা-হামলা-গ্রেফতারের স্পিড লিমিট নেই। যেন এই নির্বাচনের চূড়ান্তক্ষণে সারা বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি করেছে ‘অবৈধ শাসকগোষ্ঠী’।

ধানের শীষের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের সব প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন,  ‘ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনগণ অগণতান্ত্রিক শক্তি দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধ করা শুরু করেছে। জনগণের শক্তির কাছে দুর্বৃত্তরা পরাজিত হবেই, এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।’