৭০-৭৩ সালের নির্বাচনের মতো এবারও গণজোয়ার ছিল: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিজয়কে ১৯৭০ আর ১৯৭৩ সালের বিজয়ের মতো মনে করছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ’৭০ সালের নির্বাচন বা ৭৩ সালের নির্বাচনে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, ঠিক সেই রকম গণজোয়ার এবারও হয়েছে।

বুধবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণভবনে ব্যবসায়ী, ব্যাংকারসহ বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে এলে তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই উপলব্দির কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘৭০ সালে কিন্তু একটা ২০ দলীয় ঐক্যজোট ছিল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, যা এখনকার অনেকে জানেই না। তখনও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ২০ দলীয় একটা ঐক্য ছিল। তারা মাত্র দুটা সিট পেয়েছিল। বাকি সব সিট জাতির পিতা পেয়েছিলেন নৌকায়। বঙ্গবন্ধু জানতেন এটা পাবেন। গোটা পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ মেজরিটি পেয়েছিল। যাই হোক, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছিলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবার মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল। একজন বলছে— ভোট দিয়েছে। কাকে দিলা? বলে নৌকায়। প্রার্থী কে ছিল? বলে সে-তো জানি না। আমি নৌকায় ভোট দিয়েছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা দেখেছিলাম সত্তরের নির্বাচনে ক্যাম্পেইন করতে যেয়ে। কাকে ভোট দেবে সেটা না, শেখ মুজিবের নাও (নৌকা), শেখের নৌকাতে ভোট দেবে। নৌকা ছাড়া কিছু বোঝে না, শেখ মুজিব ছাড়া কিছু বোঝে না।’

বিরোধী জোট ঐক্যফ্রন্টের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন,  ‘এটা দুঃখজনক যে, একটা অপজিশন তাদের আচার-আচরণটা ছিল খুব পিকিউলিয়ার। কারণ, তারা যেভাবে নমিনেশন দিয়েছে, এটা ঠিক ইলেকশন করার জন্য না।’ ঐক্যফ্রন্ট মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে এভাবে হেরেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই যে নমিনেশন তারা দিচ্ছে, বার বার কিসের বিনিময়ে দিচ্ছে। এই ঘটনা যারা ঘটায়, তারা ভোটই বা পাবে কী? আর নির্বাচনই বা করবে কী? এটাতো রীতিমত ট্রেড, ব্যবসা-বাণিজ্য হয়ে গেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা অপজিশন শক্তিশালী দরকার হয় গণতন্ত্রের জন্য। কাজেই আমরা এজন্য চাচ্ছিলাম যে, অপজিশনটা অন্তত ভালোভাবে হোক। এভাবে নমিনেশন বিক্রি করলে তো অপজিশন হওয়ার সুযোগ কমই থাকে।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছিলেন। একটাই লক্ষ্য আমার, আমার আর কিচ্ছু চাওয়ার নেই। আমি কিছুই চাই না। বাংলাদেশের মানুষের ঘর হবে, তাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখবে। তারা রোগে চিকিৎসা পাবে, তাদের খাদ্য-পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। নিরাপত্তা পাবে— এটাই চাওয়া। মানুষের এই যে সমর্থন, ভালোবাসা এটাই তো আমার সম্পদ, বাপ-মা ভাইদের হারিয়ে আর কিছুইতো আমার নেই। এইটুকু আমি পাচ্ছি, এটাতো সবচেয়ে বড় পাওয়া। এই যে মানুষের বিশ্বাস,আস্থা— এই বিশ্বাসের মর্যাদা যেন আমি দিয়ে যেতে পারি, আল্লাহর কাছে সেই দোয়া করবেন।’