বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের প্রতি আস্থা হারিয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক স্মরণ সভায় তথ্যমন্ত্রী হাছানুল হক ইনুবিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের প্রতি আস্থা হারিয়েছে বলে মন্তব্য ক‌রেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘তারা জনগণ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। নির্বাচনের আগে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়েছে। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে আগে নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। নির্বাচন বর্জন আর প্রতিহতের পথ থেকে তাদের সরে আসতে হবে।’

র‌বিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃ‌তিক জো‌ট আয়োজিত সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের দ্বিতীয় প্রয়ান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা সংসদে ফিরে এসে জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলুন। তাদের অধিকার রক্ষার চেষ্টা করুণ। তা না হলে আপনারা জনগণের কাছে আর ফিরে যেতে পারবেন না।’

সুরঞ্জিত সেন গুপ্তকে কিংবদন্তী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি তার মেধা এবং প্রজ্ঞা দিয়ে সংসদকে সর্বদা প্রাণবন্ত করে রাখতেন। তিনি যে মাপের পার্লামেনটারিয়ান ছিলেন সে রকম আর দেখা যায় না। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের জন্য উদার মানসিকতার মানুষ। তার কাছে গিয়ে কেউ কোনও দিন হতাশ হয়ননি অথবা খালি হাতে ফেরত আসেননি। তার অকাল প্রয়াণে দেশ, আওয়ামী লীগ ও সংসদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সুরঞ্জিত সেন ‍গুপ্ত একজন কর্তব্য পরায়ন ব্যক্তি ছিলেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও সংসদ চলাকালে কোনোদিন সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন, তা কেউ বলতে পারবেন না। মৃত্যুর দুদিন আগেও তিনি সংসদে এসেছিলেন।’

বিরোধী নেতাদের ইঙ্গিত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখনকার নেতাদের সৌজন্যবোধ নেই। তারা কোনও অনুষ্ঠানে সৌজন্যবোধ দেখান না। অথচ অভিজ্ঞ এই পার্লামেনটারিয়ানের সেই সৌজন্যবোধ ছিল। তিনি যে কোনও অনুষ্ঠানে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করতেন। তাদের খোঁজ খবর নিতেন।’ তিনি বলেন, ‘এখনকার বিরোধী নেতাদের কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করলেও তারা সৌজন্যবোধ দেখান না। তাদের দাওয়াত করলেও নেতিবাচক মনোভাবের জন্য তারা সেটা গ্রহণ করেন না। আমি তাদের ওই নেতিবাচক মনোভাব থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের সভাপ‌তি‌ত্বে সভায় আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন, মহানগর আওয়ামী লীগের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী নেতা বলরাম পোদ্দার, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. দিলীপ কুমার রায়, কামাল চৌধুরী, অনুরাধা বিশ্বাস, কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, আক্তার হোসেন, মিজানুর রহমান বিটু প্রমুখ।