বুধবার (২৭ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে বাম নেতারা এসব কথা বলেন। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারার বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক জোট এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
বাম নেতারা বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি’র আইন ভঙ্গ করে গণশুনানি করেছে। তার আগেই জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে ঘোষণা দিয়েছেন তা বেআইনি। এক বছরে একাধিকবার দাম বাড়ানো ও বিতরণকারী কোম্পানিগুলো মুনাফায় থাকলে গণশুনানির প্রস্তাব গ্রহণ করা বেআইনি। তারপরও গণশুনানির আয়োজন করে সরকার-বিইআরসি একযোগে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এলএনজি ব্যবসায়ীদের মুনাফার স্বার্থে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।
বাসা-বাড়িতে জনগণ কম গ্যাস ব্যবহার করে বেশি দাম দিচ্ছে বলে দাবি করে এই জোটের নেতারা বলেন, ‘দেশের জনগণের দাবি উপেক্ষা করে বিদেশি কোম্পানিকে স্থলভাগের গ্যাস ক্ষেত্র ইজারা দিলেও দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও তারা অনুসন্ধান-উত্তোলন করছে না। ২০১৩ সালে সমুদ্র জয়ের পরেও আজ পর্যন্ত সমুদ্রের গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর উদ্যোগ নেই। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার ও ভারত তাদের অংশে গ্যাস তুলছে।’
অনুসন্ধান না করেই গ্যাসের সংকটের কথা বলে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে উল্লেখ করে নেতারা আরও বলেন, ‘সেখানেও দুর্নীতি চলছে, ভারত ৬ ডলারে গ্যাস কিনলেও বাংলাদেশ কিনছে ১০ ডলারে। আর এই বাড়তি মূল্য জনগণের পকেট থেকে আদায় করা হচ্ছে। এর জন্যই দফায় দফায় দাম বাড়ছে।
জোটের সমন্বয়ক বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সাইফুল হক, রুহিন হোসেন প্রিন্স, মানস নন্দী, নজরুল ইসলাম, মনির উদ্দিন পাপ্পু, হামিদুল হক ও লিয়াকত আলী প্রমুখ।