বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমরা লড়াই করে আমাদের মাকে (খালেদা জিয়া) ফিরিয়ে আনবো। আর না হয় আমরা সবাই মায়ের কাছে যাবো।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মা জেলখানায় তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে যাবেন, আর আমরা বসে বসে আলোচনা আর দাবি করবো, সেটি হতে পারে না।’
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চিকিৎসক খালেদা জিয়ার কোনও পরীক্ষা করেননি অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া কোনও কিছু ধরে রাখতে পারেন না। তিনি বিছানা থেকে কারও সাহায্য ছাড়া নামতে পারেন না। মানুষটিকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ডাক্তাররা তাকে দেখতে যাবেন, এটা অনুরোধ করে হয় না। মামলা করে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়, তারপর উনাকে দেখতে যায়। পিজি হাসপাতালে তাকে পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল, সেখান থেকে যাওয়ার পরে তিন মাসের মধ্যে কোনও ডাক্তার যায়নি। কেউ তার পরীক্ষা করে না। ৭৬ বয়সী মানুষটি নানারকম রোগে আক্রান্ত। তাকে এভাবে ফেলে রাখার অর্থ কী, উদ্দেশ্যটা কী?’
বাকশাল সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বাকশালের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী জিয়াউর রহমান এবং স্বৈরাচারী এরশাদের হাত থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। বাকশালের মাধ্যমে শুধু গণতন্ত্রকেই তারা হত্যা করেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার কায়েম করেছে। খালেদা জিয়া সেই সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। বাংলাদেশে যা যা হরণ করার সেটা করেছে আওয়ামী লীগ; আর যা যা ফিরিয়ে আনার তা করেছে বিএনপি। এটাই ইতিহাস।’
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের অপরাধ তিনি বাকশাল রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নতুন রাজনীতির জন্ম দিয়েছিলেন। নতুন দল গঠন করেছিলেন। যে দলের কাছে আওয়ামী লীগ বারবার পরাজিত হয়েছে। যতবার সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, ততবার বিএনপির বিজয় হয়েছে।’
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই তিনি আজেবাজে কথা বলেন। যেসব কথার কোনও অর্থ হয় না। এসব কথা কেউ বিশ্বাস করে না। আমি বুঝি না তারা নিজেরা নিজেদের ভালো বোঝেন কিনা। যখন তারা জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর বলেন, তখন তারা এটা ভুলে যান, যিনি তাকে বীরোত্তম উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন, তিনি ছিলেন তাদের দলেরই নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। জিয়াউর রহমান যদি পাকিস্তানের চার হন, তবে তাকে যিনি উপাধি দিলেন, তার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক কেমন? এইটুকু বুদ্ধি আমাদের মন্ত্রীদের মাথায় নেই। জিয়াউর রহমানকে অসম্মান করতে গিয়ে তারা যে তাদের নেতাকে অসম্মান করছেন এটাও তারা বোঝেন না।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুগ্ম-আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, নাজিম উদ্দীন মাস্টার, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা নেছারুল হক, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।