সোমবার (১ এপ্রিল) বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসিম বলেন, ‘সব কিছু নিয়ে রাজনীতি করা বিএনপি নেতাদের একটা স্বভাবে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে যেকোনও ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করা এখন ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এফ আর টাওয়ারের মালিককে গ্রেফতার করার পর বিএনপি থেকে বলা হলো- রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু গ্রেফতার ব্যক্তি ওই ভবনের মালিক। অপরাধী বলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এভাবে সব কিছু নিয়ে রাজনীতি করবেন না।’
বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে না আসলে বিএনপি শেষ সুযোগটাও হারাবে। ইস্যুহীন ইস্যু নিয়ে ষড়যন্ত্র না করে সংসদে এসে কথা বলুন। প্রয়োজনে আপনাদের দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবি করুন।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আন্তরিক। জেলকোড অনুযায়ী তার প্রাপ্য সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’
১৪ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বিএনপি যেকোনও সময় ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করতে পারে। তাদের এ ধরনের রাজনীতির বিষয়ে সজাগ থাকাতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে সমাজে নৈরাজ্য, মাদক, নারী-শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে ১৪ দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্য রয়েছে, ১০ এপ্রিল মতিঝিলে এবং ১১ এপ্রিল ধানমন্ডিতে অভিভাবক সমাবেশ। ১৫ ও ১৬ এপ্রিল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গোলটেবিল বৈঠক। এই বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ দেশের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়াও মুজিব নগর দিবস উপলক্ষে ১৯ এপ্রিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশের আয়োজন করা হবে।
মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, গণআজাদী লীগের সভাপতি এসকে শিকদার, জাতীয় পার্টি জেপির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহবায়ক ড. আসীত বরণ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।