বিএনপিতে এখন সন্দেহ-অবিশ্বাস: তথ্যমন্ত্রী





সংবাদ সম্মেলনে তথ্যতন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ অন্যরা

বিএনপির মধ্যে অনেক সন্দেহ, অবিশ্বাস বিরাজ করছে বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তার মতে, এই সন্দেহ-অবিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে দলটির মহাসচিবের কর্তৃত্ব খর্ব করার মাধ্যমে।
মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে যৌথভাবে পাঁচজন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পাঁচজনের মধ্যে অনেক সিনিয়র নেতার নাম নেই। এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয়, বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যে অনেক সন্দেহ-অবিশ্বাস বিরাজ করছে। আমি কাগজে আরও দেখলাম, ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে মহাসচিব একা যেতে পারবেন না।’ একে অপরের প্রতি প্রচণ্ড অবিশ্বাস থেকেই এই সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে দেওয়া চিঠি প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমাদের বন্দিবিনিময় চুক্তি না থাকায় তারেক রহমানকে ফেরত পাঠাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ এখানে প্রতিহিংসার কোনও বিষয় নেই দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আইন-আদালতের সম্মান রক্ষার্থেই তাকে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। তারেক রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। তিনি ফৌজদারি মামলা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির উচিত ছিল তাকে (তারেক রহমান) নেতৃত্ব থেকে বাদ দেওয়া। তারা সেটি করেনি। বরং একজন দুর্নীতিবাজ ও হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে সব ধরনের রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এটা বিএনপির রাজনৈতিক দৈন্যতারই বহিঃপ্রকাশ।’
হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘হত্যা-ক্যু’র মধ্য দিয়ে বিএনপির জন্ম, সেটি থেকে বিএনপি বেরিয়ে আসেনি। যে বিএনপির নেতৃত্বে দেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সেই গ্লানি থেকে বিএনপি হয়তো মুক্ত হতে চায় না বিধায় তারেক রহমানকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটা ন্যায়ের শাসন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করার ক্ষেত্রে অন্তরায়।’
বিএনপি সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করতে করতে এরইমধ্যে ১০ বছর চলে গেছে। কৌশল নির্ধারণ করতে আর কতদিন লাগে, এটা দেখার বিষয়!’
বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে বিএনপি। রাজনীতিতে ভীতি ও অগ্নিসন্ত্রাস সংযোজন করেছে বিএনপি।’