শপথ আমরা নিচ্ছি এই সরকারকে অপসারণ করার: দুদু

 বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলটির নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন দলটির যুগ্মমহাসচিব শামসুজ্জামান খান দুদুবিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, সংসদে শপথ আর প্যারোলের কথা বলে কোনও লাভ নেই। শপথ আমরা নিচ্ছি, এই সরকারকে অপসারণ করে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার। আমাদের শপথ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে আমরা যা অর্জন করেছি- গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন, এটা ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি ফিরিয়ে আনবে।

রবিবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেলের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'আমরা শপথ নিয়েছি যেকোনোভাবে যে কোনও মূল্যে, যে কোনও আন্দোলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার। আপনারা (সরকার) যদি না দিতে না পারেন সেটা আপনাদের হীনম্মন্যতা। কিন্তু বাংলার মানুষ যদি একবার জেগে ওঠে, আপনাদের অবৈধ শাসন তছনছ করে ফেলবে। খালেদা জিয়াকে তারা কারাগার থেকে মুক্ত করে আনবেই।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, 'আসুন আমরা এই মাসে শপথগ্রহণ করি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের জন্য শপথগ্রহণ করি।

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, 'বর্তমানে দেশে যে পরিস্থিতি চলছে সেখানে বলা যায়, দেশে কোনও জবাবদিহিমূলক শাসন নেই। আইনের শাসন নেই। মানুষের নিরাপত্তা নেই, ভীতিকর একটা পরিস্থিতিতে মানুষ জীবনযাপন করছেন। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি কোনও নির্বাচনে পরাজয়বরণ করেননি। যখন যেখানে দাঁড়িয়েছেন সেখানেই বিজয়ী হয়েছেন। শুধু তাকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার জন্য, তার দলের বিজয়কে আত্মসাৎ করার জন্য এ সরকার গত নির্বাচনে যে অপকর্ম করেছে তা দিনের আলোতেও করেছে, রাতের গভীরেও করেছে।'

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, 'বর্তমানে যে পরিস্থিতি, মনে হচ্ছে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। তার ন্যায্য পাওয়া জামিন, যেটা সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে, সেটা দেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসার জন্য তাকে বারবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই চিকিৎসা বন্ধ করে রেখেছে।'

মানববন্ধনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, হাবিব উন-নবী খান সোহেল মুক্তি পরিষদ সভাপতি মো. খলিলুর রহমান, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।