ভারতের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবি বিরোধী দলগুলোর





প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দেশটির সঙ্গে করা সব ‘অসম’ চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। রবিবার (৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বিভিন্ন দলের নেতারা এ আহ্বান জানান।
বিরোধী নেতাদের দাবি, ভারতের সঙ্গে করা উপকূলে নজরদারি, ফেনী নদীর পানিবণ্টন ও গ্যাস রফতানিসহ সব চুক্তি দেশের স্বার্থের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে করা অসম চুক্তির বিষয়গুলো রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো নিয়ে কোনও আলোচনা করা হয়নি।’
এসব চুক্তি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল দাবি করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী তিস্তার পানি নিয়ে চুক্তি করতে পারেননি, রফতানি অসমতার কোনও কূলকিনারা করতে পারেননি, সীমান্তে হত্যা বন্ধের কোনও বন্দোবস্ত করতে পারেনি।’

আরও পড়ুন: যে ৭ ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি ও সমঝোতা


২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দিল্লিকে তুষ্ট করতে শেখ হাসিনা সরকার একের পর এক দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে যাচ্ছে। এর সর্বশেষ নজির ফেনী নদীর পানি বিষয়ক চুক্তি।’
গণতান্ত্রিক বামমোর্চার শরিক ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বিবৃতিতে বলেন, ‘তিস্তার পানির ওপর বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি বরাবরের মতো ঝুলিয়ে রেখে ভারতকে ফেনী নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের চুক্তি করা হলো।’
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ‘ভারতের সঙ্গে যে ৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে সেগুলো সংবিধান পরিপন্থী ও দেশবিরোধী।’ দেশের জনগণ এসব চুক্তি কখনও মেনে নেবে না বলেও দাবি করেন তিনি।