উপকূলে নজরদারি, ফেনী নদীর পানি বন্টন ও গ্যাস রফতানিসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের করা চুক্তি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। সংগঠনটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকতে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে সরকার। উপকূলে নজরদারি, ফেনী নদীর পানি বন্টন ও গ্যাস রফতানিসহ সব অসম চুক্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি আমরা।’ রবিবার (৬ অক্টোবর) বিকালে ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মিটিং শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে দাবি করে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সরকার গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে না। সরকার বলছে, গ্যাস স্বল্পতার কারণে ক্ষতিকর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় দিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভারতে তরল গ্যাস রফতানির চুক্তি করেন। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত; যা চূড়ান্তভাবে দেশের স্বার্থবিরোধী।’
ভারত ছাড়া বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে অন্য কোনও দেশের অনুপ্রবেশ তেমন নেই বলে দাবি করে ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, ‘তাহলে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নজরদারিতে সহযোগিতার নামে যে চুক্তি সেটার আসলে অর্থ কী? ভারতের ফারাক্কা বাঁধের স্লুইচগেট খুলে আকস্মিকভাবে পানি ছেড়ে দেওয়ায় এখন কুষ্টিয়াসহ আশেপাশের কয়েকটি জেলা পানিবন্দি। সেখানে কয়েক হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের এই আচরণ বর্বর-অমানবিক এবং একইসঙ্গে আঞ্চলিক মাতব্বরির স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। এটা বাংলাদেশের ওপর এক ধরনের আগ্রাসন।’
চলমান এ পরিস্থিতিতে ফেনী নদীর পানি ভারতের সঙ্গে বন্টনের সিদ্ধান্ত চরমভাবে জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে দাবি করে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘তিস্তাসহ অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাচ্ছি না। অথচ দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দলীয় স্বার্থে একের পর এক ভারতের কাছে নতজানু নীতিতে চুক্তি করে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এর আগে ২০০২ সালে সিলেটের বিবিয়না থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতে গ্যাস রফতানির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত রুখে দিয়েছে। এখনও আমরা কোনোভাবেই গ্যাস রফতানির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করছি না।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিক রেজা, দফতর সম্পাদক এম এইচ রিয়াদ প্রমুখ।