দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৪৯ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত হয় দলটি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এদেশের গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়েছে দলটি। এ উপলক্ষে সোমবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে সকাল ৭টায় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এসময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। এ কর্মসূচি শেষে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনের পাদদেশ থেকে গণর্যালি বের হওয়ার কথা রয়েছে। র্যালিটি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে এসে শেষ হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার গৌরবোজ্জ্বল বর্ষপূর্তিতে সব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের সব জেলা, উপজেলাসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনের এক সমাবেশ থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠাকালে এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ এবং সংগঠনটির সভাপতি ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক। তখন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দি। বন্দি অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। পরে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে দলটির নাম হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। এ কারণেই দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে পড়ে দলটির নাম। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নানা চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিয়ে আজকের অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে দলটি। বর্তমান মেয়াদ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। উপমহাদেশের রাজনীতিতে গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছে গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেওয়া এই দলটি। দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগের উজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। ৫২'র ভাষা আন্দোলন, ৬২'র ছাত্র আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণঅভ্যুত্থান, ৭০'র যুগান্তকারী নির্বাচন আর ৭১' সালের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন সবখানেই সরব উপস্থিতি ছিল আওয়ামী লীগের। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রসেনা ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় স্বৈরশাসনের ধারা। এরপর থেকে দেশকে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে দলটি। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা দলের হাল ধরেন। গণতান্ত্রিক ধারায় দেশকে ফিরিয়ে আনতে শুরু হয় তার আপোসহীন সংগ্রাম। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৯৬ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। গত জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার পরিচালনার দায়িত্বগ্রহণ করে আওয়ামী লীগ। বর্ণিল আয়োজনে এবার দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ আয়োজনকে বর্ণিল করতে গত কয়েক দিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় ও উপ-কমিটির সদস্যরা কাজ করছিলেন। ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর কমিটিও।