ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের আন্দোলনের হুমকি

 

ছাত্রলীগআবারও আন্দোলনের যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। ছাত্রলীগে পদপ্রাপ্ত বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিতে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি না হলে তারা আন্দোলনে যাবেন। সোমবার (২৮ অক্টোবর) রাতে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলোচনা শেষে এ ঘোষণা দিয়েছেন ‘বিতর্কমুক্ত ছাত্রলীগ’ আন্দোলনের মুখপাত্র রাকিব হোসেন।

রাকিব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা দায়িত্ব পাওয়ার পরে বলেছিলেন, সবার আগে আমাদের বিষয়টি সমাধান করবেন। কিন্তু, দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তারা বিতর্কতদের বাদ দেননি। আজ তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে অনেক কথা হয়েছে। তবে, আমরা তাদের কথায় সন্তুষ্ট নই। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী তিন দিনের মধ্যে ছাত্রলীগকে বিতর্কমুক্ত করতে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি যদি না দেখি, তাহলে ছাত্রলীগকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে যদি আন্দোলন বা কমর্সূচি করার দরকার হয়, তা আমরা করবো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা আমাদের সব সময় হয়। আজকেও মধুর ক্যান্টিনে চায়ের আড্ডায় বসেছি। বিতর্কিতদের নিয়ে কথা বলেছি। পদ-পদবি ছাড়া রাজনীতি করা কঠিন, এসব কথা তারা আমাদের জানিয়েছে।’

আল্টিমেটামের বিষয়ে আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘তারা (পদবঞ্চিতরা) যদি আন্দোলন করতে চান, আমরা তাদের ধরে রাখতে পারবো না। এটা তাদের বিষয়। আমাদের ওপর ছাপিয়ে দিয়েও লাভ নেই। আর আমরা একটি বিশেষ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছি।’

উল্লেখ্য, ১৩ মে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন তখনকার সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। ওই দিনই পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভ মিছিল শেষে সন্ধ্যায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে এলে কিছু নেতা-কর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে সেটি আন্দোলনে রূপ নেয়। এরপরের দিন থেকে হামলার বিচারসহ বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন আরও  জোরালো হয়। এরপর ১৯ মে রাতে টিএসসিতে পদবঞ্চিতদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন সে সময়ের ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু, সেদিন মধ্যরাতে তাদের ওপর গোলাম রাব্বানীর অনুসারীরা পুনরায় হামলা করেন বলে অভিয়োগ তুলে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রথমে তারা দাবি আদায়ে অনশনে বসেন। পরে শুধু অবস্থান কর্মর্সূচি পালন করেন। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে অবস্থানের পর ১ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  ওবায়দুল কাদেরের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি এসে তাদের আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন।