‘শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় শরিকদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি গৌণ ছিল’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ফাইল ছবি)

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি, সেই নির্বাচনে যাওয়ার আগে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় বসেছি। সেখানে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তিকে প্রাধান্য দিতে পারিনি। কারণ, আমাদের সঙ্গে আরও অনেক শরিক ছিল। তাদের কাছে নির্বাচনে অংশগ্রহণটাই বড় ছিল; তাদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তিটা গৌণ ছিল। সেই নির্বাচনের আগে আমরা যদি শক্তভাবে বলতে পারতাম—তাকে (খালেদা জিয়া) ছাড়া নির্বাচনে যাবো না, তাহলে তিনি আজ মুক্ত থাকতেন।’

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে যুবদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও যুবদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘আমাদের দলের কিছু লোক শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করছেন যে, খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি নিতে রাজি করাবেন। সেই জন্য শেখ হাসিনা বসে আছেন, আর খালেদা জিয়ার মুক্তি আদালত থেকে অনিশ্চিত।’

নির্বাচনের পরও বিএনপি লোভ সামলাতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এখন দলের সংসদ সদস্যরা সংসদ থেকে বলেন, আজকে তিনি (খালেদা জিয়া) মুক্তি পেলে কালকে তাকে কোথায় দেখতে পারবো? লন্ডনে তাকে দেখতে পারবো। তাকে অপমান করার দুঃসাহস কারও থাকা উচিত নয়। তিনি আপসহীন নেত্রী। তাকে অনুকম্পা, তার প্যারোল নেওয়ার দায়িত্ব যদি দলের কেউ বহন করে এবং সেটা দৃশ্যমান হয়, তার পরিণতি কী হবে, আশা করি—সবাই জানে। আমি তাকে মীরজাফর বলবো না, কারণ এটা তো একটা নাম। তার পরিণতি মীরজাফরের চেয়েও খারাপ হবে।’

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস-চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।