সোমবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের এক রেস্টুরেন্টে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রিপুরা রাজ্যের স্পিকার রেবতি মোহন দাসসহ ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে সার্ক কালচারাল সোসাইটির পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ে ভারতের যে সমস্যা ছিল, তা মিটে গেছে দাবি করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নির্মূল করা হয়েছে। এখন দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি ভারত ফেনী নদীর পানি নেওয়ায় এদেশের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ভারত আমাদের তিস্তা নদীর ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না। এটা নিয়েও জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। আবার এনআরসি নিয়েও বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। তবে এখনও এনআরসি আমাদের জন্য কোনও সমস্যা তৈরি করেনি। এক দেশ আরেক দেশের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার স্পিকার রেবতি মোহন দাস বলেন, ‘ত্রিপুরার ৮০ ভাগ সীমান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের অনেক মানুষ ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। এবার বাংলাদেশে এসে আমরাও দলমত নির্বিশেষে আতিথেয়তা পেয়েছি। বাংলাদেশ আমাদের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী। আমাদের বন্ধন আত্মীয়তার।’
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার অনুপ চেটিয়াসহ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নির্মূল করেছে উল্লেখ করে রেবতি মোহন বলেন, ‘এতে আমাদের সমস্যা দূর হয়েছে। এখন ফেনী নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ করায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। এ সম্পর্ক আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আগামীতেও যে কোনও প্রয়োজনে আমরা একে অপরের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেবো।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন সার্ক কালচারাল সোসাইটির সভাপতি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাধারণ সম্পাদক সুজন দে, ত্রিপুরার বিজেপির বিধায়ক আশীষ কুমার সাহা, আগরতলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রণব সরকার, আসামের সাংস্কৃতিক সংগঠক ড. সৌমিন ভরাদিয়া, সুনীল শুভ রায় প্রমুখ।