পৌর এলাকায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন মন্ত্রী-এমপিরা

poro-nirbachonশহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে যোগ দিতে পৌর এলাকায় যেতে পারবেন মন্ত্রী-এমপিরা। তবে, অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তারা কোনও প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। রবিবার এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে। ইসি সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কমিশনে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রী-এমপিরা যাবেন, তাদের না করা যাবে না। আমরা চিন্তা করেছি, শর্ত সাপেক্ষে তাদের অনুমতি দেব। রবিবার এ বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত ‍আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন পৌরসভা থেকে রিটার্নিং অফিসারদের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের অবস্থান কী হবে, মতামত চেয়ে কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে বিষয়টি অনুমোদনের চিন্তা করছে।
ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দিবস উদযাপন ‘স্পর্শকাতর’ হওয়ায় মন্ত্রী-এমপিদের ওই সব অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া ঠিক হবে না বলে মনে করছে কমিশন। এতে কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তাই, এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারি সুবিধাভোগীদের কেউ যেতে চাইলে কমিশন আটকাবে না। এক্ষেত্রে ওই সব অনুষ্ঠানে পৌর নির্বাচন নিয়ে যেন কোনও আলোচনা বা প্রচারণা না চলে, সেই শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোয় মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারি সুবিধাভোগীরা অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে দুটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে। শর্তগুলো হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও আলোচনা বা প্রচারণা না চালানো এবং তাদের উপস্থিতিতে দলীয় প্রার্থীদের উপস্থিত থাকা থেকে বিরত রাখা। আগামী রবিবার এ বিষয়ে কমিশন থেকে আরেকটি নির্দেশনা জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আভাস দিয়েছেন।

এদিকে, এ নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের যেসব সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করছে কমিশন। এতে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়ার হবে, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে কমিশন সভায় তোলা হবে।  

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনি আচারণবিধি অনুযায়ী, মন্ত্রী, এমপিসহ সরকারি সুবিধাভোগীরা প্রচারে অংশ নিতে পারেন না। কিন্তু আগামী ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসসহ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওই সব অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সুযোগে গুরুত্বপূর্ণ এসব ব্যক্তি যেন নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে না পারেন, সে লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কমিশন। ইতোমধ্যে পাবনাসহ কয়েকটি স্থানে সংশ্লিষ্টদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী বলেন, আচরণবিধিতে বলা আছে, সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। আমরা আচরণবিধি অনুসরণ করতে সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি।

পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোয় প্রার্থীদের যেকোনও প্রচারণা চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে ইসি। শিগগিরই এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি হচ্ছে। ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কর্মিসভা, ধর্মীয় সভা বা অন্য কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চাঁদা দেওয়া, অনুদান দেওয়া বা দেওয়ার অঙ্গীকার করা থেকে বিরত থাকবেন। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বিষয়টি প্রার্থীদের জানিয়ে দিতে রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

/এমএনএইচ/