আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করার কারণে প্রথমে বিচারিক আদালতে এবং পরে উচ্চ আদালতে দণ্ডিত হয়েছেন। আবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তিনি দণ্ডিত হয়েছেন। তার জামিনের বিষয়টিও আদালতের এখতিয়ারে। এখানে সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
এসময় আইনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিএনপি আমলে আদালতকে তারা নিজেদের পকেটে রাখতো, সেই অবস্থা এখন আর নেই। বিচার বিভাগ এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন।
ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এই আইন সংশোধনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে একজন যুগ্ম জেলা জজ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনটি সংশোধন হলে যুগ্ম জেলা জজের পাশাপাশি সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজরাও এই মামলাগুলোর বিচার করতে পারবেন। এতে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়বে।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, একসেস টু জাসটিসকে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে জিপি-পিপিদের সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। সব সময় আদালতের নির্দেশনা পালন করে আদালতের মামলা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রায়ই শোনা যায় কোনও কোনও জিপি-পিপি বিভিন্ন অজুহাতে আদালতে সময়ের দরখাস্ত দাখিল করে থাকেন, যা মোটেই কাম্য নয়। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে অবশ্যই আদালতের সময় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সব নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। আদালতে সঠিক সময়ে সাক্ষী হাজিরসহ নির্ধারিত তারিখে সাক্ষী পরীক্ষা করার ক্ষেত্রেও সচেষ্ট হতে হবে। এক্ষেত্রে কোনও গড়িমসি মনোভাব কাম্য নয়।
মামলার জট কমিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কতিপয় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে আনিসুল হক আরও বলেন, দেওয়ানি কার্যবিধি এবং অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিকল্পবিরোধ নিষ্পত্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির সহায়ক আইন করা হয়েছে। জিপি- পিপিদেরকে এ আইনের বিধানগুলো অনুসরণ করতে হবে এবং বিচারপ্রার্থীসহ আইনজীবীদের এ বিষয়ে উৎসাহ দিতে হবে।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইন সচিব মো. গোলাম সাওয়ার।