ইভিএম মেশিনগুলো বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিন: নির্বাচন কমিশনকে আমীর খসরু

প্রেস ক্লাবে মতবিনিময় সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশন অনুমোদন ছাড়া এলসি খুলে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ইভিএম মেশিন (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) কিনেছে এবং এতে দেশের জনগণের চার হাজার কোটি টাকা অপচয় হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ইভিএম মেশিনগুলো বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিন।’

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, ‘কোনও গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে সামান্য পরিমাণ জবাবদিহিতা আছে, সেখানে যারা মূল স্টেকহোল্ডার তাদের মতামত সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে নির্বাচন কমিশন এরকম কাজ করতে পারে না। আর সবচাইতে বড় কথা হলো আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ যেখানে ২১ হাজার টাকা করে ইভিএম মেশিন কিনেছে, সেই ইভিএম মেশিন আমাদের নির্বাচন কমিশন কিনেছে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা দামে। অর্থাৎ প্রায় ১১ গুণ বেশি দাম দিয়ে। তাই আমি নির্বাচন কমিশনকে বলবো এসব মেশিন ক্রয় করা হয়ে গেছে, দুর্নীতির টাকাও পকেটে ঢুকে গেছে। এখন আল্লাহর ওয়াস্তে বাংলাদেশের জনগণকে বাঁচান। তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার স্বার্থে, এদেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে, এদেশের মানুষের অধিকারের স্বার্থে দয়া করে মেশিনগুলোকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিন। এই জাতিটাকে এবার মাফ করে দিন আপনারা। যারা প্রযুক্তি বোঝে, যারা প্রযুক্তির জন্ম দেয়, সেই সমস্ত দেশ ইভিএম বন্ধ করে দিয়েছে। এই ইভিএম ব্যবহার করলে তাদের ভোটাধিকার নিয়ে শঙ্কা আছে, এজন্য তারা এটাকে বাদ দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যালটবাক্সে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সই দিয়ে দিনের বেলা ভোট চুরি করা এতটা সহজ নয়, সেটা আওয়ামী লীগ ৩০ তারিখের নির্বাচনে বুঝতে পেরেছিল। তাই ২৯ তারিখ রাতে ভোট ডাকাতি করেছিল। এজন্য সরকার জানে যে ব্যালটে সিল মেরে দিনের আলোতে ভোট চুরি করা কতটা কষ্টের। তাই তারা নতুন অধ্যায় চালু করেছে। আর সেই অধ্যায় হলো ইভিএম অধ্যায়। তাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ইভিএম বন্ধ করতে হবে। আর ইভিএম বন্ধ না হলে আগামী দিনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আমাদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ 

চট্টগ্রামের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, ‘ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের উপনির্বাচনে প্রায় সব কেন্দ্র ক্ষমতাসীনরা দখল করে নিয়েছে। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতির মাধ্যমে তারা কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। ভোটাররা ভোট দিক বা না দিক তারা তাদের ইভিএমের মাধ্যমে সুন্দরভাবে ভোটগুলো তাদের পক্ষে নিয়ে নিচ্ছে। ঢাকাতেও একই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন উপলক্ষে ৩০ তারিখের আগ পর্যন্ত কোনও গ্রেফতার-হয়রানি বা অভিযান চলবে না বলে নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছিল উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমি নিজে গিয়েছি, নির্বাচন কমিশনার আমাকে কথা দিয়েছেন ৩০ তারিখ পর্যন্ত কোনও গ্রেফতার হবে না, অভিযান চলবে না। কিন্তু কী দেখা যাচ্ছে? গ্রেফতারও চলছে, অভিযানও চলছে। আক্রমণ চলছে, হামলা চলছে। হামলা মামলার মাধ্যমে ভয়ভীতির সৃষ্টি করছে।’