ঢাকাতে এখনই সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু হয়েছে: রিজভী

রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ফটো)

ঢাকায় আসন্ন দুই সিটি নির্বাচনও চট্টগ্রামের মতো দখলের নীলনক্শার প্রস্তুতি কিনা, তা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন,  ‘ঢাকাতেও এখনই সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রচারণার সময়ে গ্রেফতার অভিযান করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।এখন গ্রেফতার চলছে, অভিযানও চলছে, আক্রমণ, হামলা চলছে। হামলার মাধ্যমে একটা ভয়ভীতির পরিবেশ তারা সৃষ্টি করেছে।’

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, চট্টগ্রামের মতো ঢাকার দুই সিটির ভোটও সুষ্ঠু হবে না। চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনের মতো সরকারের বিশ্বস্ত ভাঁড় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ঢাকাতেও নিজের তেলেসমাতি অক্ষুণ্ন রাখবেন কিনা, সেটি নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দীর্ঘ হচ্ছে।’

রিজভীর অভিযোগ— গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতে ভোট ডাকাতি উপহার দেওয়ার জন্য মুচলেকা দিয়ে শেখ হাসিনার কাছ থেকে দামি বিএমডব্লিউ পেয়েছিলেন সিইসি হুদা।

ইভিএমে ডিজিটাল ভোট ডাকাতি মহড়ার অংশ ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচন এবং হাইমচরের উপজেলা নির্বাচন ভোট বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন,  ‘এই দুই নির্বাচন ছিল প্রস্তুতি ম্যাচ। সেখানে প্রমাণ হয়েছে ভোটার ছাড়াই ইভিএমে নৌকার প্রার্থীদের কীভাবে পাস করানো সহজ।’

প্রতিনিয়ত নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন সরকারি দলের প্রার্থীরা বলে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। বেছে বেছে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

রিজভী আরও বলেন,  ‘এখন কোনও নির্বাচনের আগে রাতে ভোট দেওয়া শুরু করলে আর কেউ না হোক সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে যাবেন। অতএব এবার তাদের আরেকটি নতুন পন্থা উদ্ভাবন করতে হয়েছে। সেটা হলো এই ইভিএম। এটাই বিস্ময়কর। কার্যত ইভিএমে সুষ্ঠু ভোটের ন্যূনতম সুযোগ নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব মাহাবুব উদ্দিন খোকন, সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন প্রমুখ।