ক্ষমতাসীনদের আত্মসাতে সারাদেশে ত্রাণ নিয়ে হাহাকার: রিজভী

ক্ষমতাসীনদের আত্মসাতের কারণে সারাদেশে ত্রাণ নিয়ে হাহাকার চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আজকে সরকারি যে ত্রাণ, এই ত্রাণ আত্মসাৎ হয়ে যাচ্ছে। কাদের দ্বারা? এই সরকারি দলের লোকদের দ্বারা। হাহাকার করছে খুলনার রেলস্টেশনের শ্রমিকরা একটু ত্রাণের জন্য।’

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ‘ফিউচার অব বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে ঘরে ঘরে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচি উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের নার্সরা খাবার পাচ্ছে না। অথচ ক্ষমতাসীন দলের লোকজনদের বাড়িতে চাল বোঝাই হয়ে যাচ্ছে। কার চাল? জনগণের চাল। তাদের টাকায় কেনা চাল।’

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ এমন দাবি করে রিজভী বলেন, ‘যখন সবমহল থেকে বলা হচ্ছে, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই মহামারি মোকাবিলা করতে হবে, তখন সরকার একগুঁয়েমি করছে। একতরফাভাবে কাজ করতে গিয়ে শুধু নিজের দলের লোকজনের পেট ভরানোর কাজটা গত ১০ বছর ধরে যেভাবে করেছে, এখন সেটাই করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন মানুষ রাস্তায় মরে পড়ে থাকছে, মানুষ একটু খাবারের জন্য হাহাকার করছে। রেলস্টেশনে, পথে-ঘাটে  ত্রাণের আশায় মানুষ দিনের পর দিন গ্রীষ্মের প্রখর রোদের মাঝে  অপেক্ষা করছে, তারা ত্রাণ পাচ্ছে না। সেখানে ত্রাণ লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। এখনও বলছি, জনগণের এই দুর্দশা লাঘব করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে কাজ করতে হবে। আজকে যারা সরকারে আছেন, তাদের প্রধান দায়িত্ব এই কাজটা করা। অথচ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, তথ্যমন্ত্রী তারা নানা কথাই বলছেন যে, না ত্রাণ চুরি হচ্ছে না, চাল চুরি হচ্ছে না। আমরা ঠিকমতোই দিচ্ছি।’

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনার একনায়কতন্ত্রের যে আচরণ, সেই আচরণটা অব্যাহত রেখেছেন। এভাবে বিশ্বব্যাপী এই মহামারির তাণ্ডব, যে প্রাদুর্ভাব—এটা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এখনও সময় আছে, সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নেবেন। ঐক্যবদ্ধভাবে যাতে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সবাইকে সচেতনতার মধ্য দিয়ে, দুস্থ মানুষের বাড়িতে গিয়ে যাতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থাটাই গ্রহণ করবেন।’

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন ফিউচার অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শওকত আজিজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজেদ বিন হাসান, কে জি সেলিম, সদস্য নাহিদ রহমান পুতুল, রবিকুল হাবিব প্রমুখ।