আগামী ২৬ মার্চ ১৯৫ জন পাকিস্তান সেনার বিচার করবে গণআদালত, পাশাপাশি প্রতীকী রায় কার্যকরের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আগামীকাল শুক্রবার (১৮ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ও গণবিচার শিরোনামে পাকিস্তানের ১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হবে এই আদালতে। জনতা তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই বিচারের ব্যবস্থা করবে। আজ বৃহস্পতিবার এক সভার মধ্য দিয়ে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সভায় উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের নেতা কামাল পামা চৌধুরী এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আবেদ খান, অঞ্জন রায় প্রমুখ।
এ বিষয়ে অঞ্জন রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতীকী রায় কার্যকরের বিষয়ে আগামী ২৬ মার্চ ১৯৫ পাকিস্তান সেনার বিচার গণআদালতে করা হবে।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ, মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘ নীরবতার পর শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয় গণআদালত। প্রতীকী বিচারে জামায়াতের সে সময়ের আমির গোলাম আযমের অপরাধ মৃত্যুদণ্ডতুল্য বলে রায় দেয় গণআদালত। এর প্রায় ২১ বছর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হলো। ২১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে কাঙ্ক্ষিতি এই বিচার পেতে।
যারা গণআদালতে বিচারের চিন্তা করছেন তারা মনে করেন, জাহানারা ইমামের পথ ধরে যেমন বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু হয়েছিল, তারাও পাকিস্তানের বিচার হওয়ার বিষয়ে আওয়াজ তুলে বিচারের সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটা করতে পারবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় উপস্থিত একজন সদস্য বলেন, আমরা চাই পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক। আগামী ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সৈন্যদের যুদ্ধাপরাধের বিচার করে রায় ঘোষণা করা হবে। এটা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়। পাকিস্তান যদি মনে করে কালে কালে তারা এইভাবে তাদের অপরাধকে অস্বীকার করবে সেটা হতে দেওয়া যায় না। সে কারণে একটা গণআদালত করে বিচার সম্পন্ন করলে তাদের কাছে একটা বার্তা পৌঁছাবে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ১৯৫ চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই আশ্বাস থেকে যে, তারা তাদের বিচার সম্পন্ন করবে। এদিকে পরিস্থিতিতে তদন্তে বানানো হামিদুর রহমান কমিশন ওইসব উচ্চপদস্থ অফিসারকে কোর্টমার্শালের সম্মুখীন করা, তদন্ত করে জনসম্মুখে বিচার করা, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সামরিক বাহিনীতে চাকরি অব্যাহত রাখার অযোগ্য ঘোষণা প্রভৃতি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার পরও তা না করে প্রত্যেককে নানাভাবে পুরস্কৃত করেছে। এবং খুব সম্প্রতি তারা ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং সেখানে তাদের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক নেতিবাচক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামী গোলাম আযমকে দলের আমির ঘোষণা করলে বিক্ষোভ শুরু হয়। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ৯২ সালের১৯ জানুয়ারি গঠিত হয় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। ১১ ফেব্রুয়ারি সমমনা ৭০টি দল ও সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ওএকাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি। এর আহ্বায়ক হন জাহানারা ইমাম। এর ঠিক পরের বছরের ২৬ মার্চ সমন্বয় কমিটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণ-আদালত বসিয়ে গোলাম আযমের যুদ্ধাপরাধের প্রতীকী বিচার করা হয়।
/এএইচ/আপ-এনএস/