বাজেটের সময়কাল ‘জানুয়ারি-ডিসেম্বর’ করার প্রস্তাব এবি পার্টির

১১১

বাজেটের সময়কাল পরিবর্তন করে ‘জানুয়ারি-ডিসেম্বর’ পর্যন্ত নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একইসঙ্গে প্রত্যেক সক্ষম নাগরিককে সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জন-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে দলটি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর বিজয় নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘করোনা আক্রান্ত অর্থনৈতিক দুর্যোগে কেমন বাজেট চাই: সংস্কার ও খাতভিত্তিক সুপারিশ’ শীর্ষক প্রাক বাজেট প্রস্তাবনায় এ কথা বলা হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাজেট সংস্কার ও প্রস্তাবনা ফেসবুক ও ইউটিউব লাইভে প্রচার করে এবি পার্টি। সুপারিশ ও প্রাক বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন এবি পার্টির আহ্বায়ক সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী।

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত ও ছেড়ে আসা নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গত ২ মে গঠিত এবি পার্টি প্রা-বাজেট প্রস্তাবনায় ১৩টি সুপারিশ করেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য— বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা আনতে যথাযথ জবাবদিহিতার মেকানিজম চালু এবং তিরস্কার/পুরস্কার উভয় প্রণোদনার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, অর্থমন্ত্রী প্রত্যেক কোয়ার্টার শেষে বাজেটের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করবেন এবং পরবর্তী কোয়ার্টারে বাজেট বাস্তবায়নের দক্ষতা নিশ্চিতে সংসদ সদস্যরা দিক নির্দেশনা দেবেন।

এবি পার্টির ১৩টি প্রস্তাবের অন্যগুলো হচ্ছে— সর্বজনীন স্বাস্থ্য বিমা ও সেবা নিশ্চিত করতে জিডিপির কমপক্ষে ১০ শতাংশ তহবিল বরাদ্দ,ওষুধ উৎপাদন, বিতরণ, স্বাস্ব্যসেবার মানোন্নয়ন, প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, আইসিইউ এবং ভ্যান্টিলেটর মেশিন ক্রয়, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, কম্যুনিটি-ভিত্তিক চিকিৎসা প্রদানের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যয় বরাদ্দ, অযথা বিশাল অঙ্কের উন্নয়ন বাজেট না করে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাস্তবভিত্তিক বাজেট ঘোষণা করা,  কৃষককে সর্বোচ্চ প্রণোদনা ও কৃষি খাতে বাজেটের কমপক্ষে ১০ শতাংশ বরাদ্দ, নিজস্ব আয়কর সীমা ২ দশমিক ৫ লাখ হতে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ, ‘দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ আইন ২০১০’ ও দুর্নীতিযুক্ত কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বাতিল,  বায়ু এবং পানি দূষণ কমাতে দূষণ কর আরোপ করা ও পরিবেশ অধিদফতরকে স্বাধীন এবং সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা, সুন্দরবন ও অন্যান্য সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাছে কোনও শিল্প ও কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমতি প্রদানের পরিবর্তে ওইসব জায়গায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র করা, উপকূলে লবণাক্ততা নিরসনে অধিক মাত্রার লবণ সহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, ‘শিক্ষা ও গবেষণা তহবিল' প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে প্রতিবছর কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান, অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আমদানি করা উপকরণকে সব ধরনের কর হতে অব্যাহতি প্রদান করা।

সোলায়মান চৌধুরী বলেন, ‘চীন ও কিউবার মতো দেশগুলোর ন্যায় স্বাস্থ্যসেবার মান আন্তর্জাতিক মানে নিতে সর্বজনীন স্বাস্থ্য বিমা ও সেবা নিশ্চিত করতে জিডিপির কমপক্ষে ১০ শতাংশ তহবিল বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিগত অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সরকার উন্নয়ন বাজেটের মাত্র ৬০-৬৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। সে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অযথা বিশাল অঙ্কের উন্নয়ন বাজেট না করে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাস্তবভিত্তিক বাজেট ঘোষণা করা উচিত।’

কোভিড-১৯ মহামারির সংক্রমণ রোধে সরকারি, দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগের দাবি করেন এবি পার্টি প্রধান।

শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রস্তাব দিয়ে সোলায়মান চৌধুরী বলেন, ‘সৃজনশীল জ্ঞানার্জন এবং গবেষণায় যেন ছাত্র-ছাত্রীরা স্বউদ্যোগী হয়ে নিয়োজিত হয়— এজন্য গবেষণা, সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করা উচিত।’

‘শিক্ষা ও গবেষণা তহবিল' প্রতিষ্ঠা করে প্রতিবছর কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করার দাবি জানান বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করা প্রবীণ এই সাবেক আমলা।

এবি পাটির সহকারী সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রেস ব্রিফিং-এ পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, সহকারী সদস্য সচিব নাজমূল হুদা অপু, আনোয়ার সাদাত টুটুল, শাহ আব্দুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।