শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে পার্টি আয়োজিত ‘পাট খাতের সুরক্ষায় ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনার সেমিনারে এসব কথা বলেন মেনন। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সদস্য মোস্তফা আলমগীর রতন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, আত্মঘাতী এবং অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। বিশ্ব যখন পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখানে পাট খাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা বাড়বে।’
ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টচার্য্য বলেন, ‘লোকসানের কথা বলা বজ্রপাত তুল্য। সত্যটা হলো দুর্নীতি, যার কারণ লোকসান। পাটকল ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অযোগ্যতা পর্যালোচনা হওয়া উচিৎ। তিনি সরকারের সাথে এই বিষয়ে আলোচনার উদ্যোগের আহ্বান জানান।’
ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পশ্চিমবঙ্গের অভিজ্ঞতা নেওয়া উচিৎ। তিনি বলেন এটা পিপিপি নয় এটা প্রাইভেটাইজেশন। সরকারের এই সিদ্ধান্তে পাটের বাজারে ধ্বস নামবে, পাট চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
পাট কমিশনের সাবেক সদস্য খালেদ রব বলেন, ‘পাটকল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক। যদিও সরকার তার জোট সঙ্গীদের সাথে এ নিয়ে কোনও আলোচনা করেছে বলে মনে হয়না। তবে পাটের বাজার টিকিয়ে রাখতে হলে কারখানা চালু রাখতে হবে। বাজার একবার হারালে আর ফিরে পাওয়া যাবেনা।’
প্রখ্যাত পাটকল শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পাটশিল্প আধুনিকীকরণে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের একটি লিখিত প্রস্তাব আমরা সরকারপ্রধানের নিকট দিয়েছিলাম, তা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনাই তারা করলেন না। আমাদের প্রদত্ত সূত্রে বর্তমান উৎপাদনের চাইতে তিনগুণ বেশী উৎপাদন এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে নতুন কর্মস্থানের কথা বলেছিলাম।’
পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত পরিপূর্ণ রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক নয়। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে পাটই ছিল আমাদের রাজনৈতিক দাবীর কেন্দ্র বিন্দু।'
আলোচনায় আরও অংশ নেন যশোর জুটমিলের সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন রশিদ মল্লিক, হাফিজ জুট মিলের সিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম, খুলনার প্লাটিনাম জুটমিলের সিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান। ওয়েবিনারে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সদস্য মোস্তফা আলমগীর রতন, পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, সুশান্ত দাস, মাহমুদুল হাসান মানিক প্রমুখ।