আইয়ুব খানও উন্নয়নের একদশক উদযাপন করেছেন: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘উন্নয়নের নামে ক্ষমতাসীন দুষ্ট চক্রের গত একযুগের এই দুঃশাসনের সঙ্গে একমাত্র বিতাড়িত তৎকালীন স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের কথিত উন্নয়নের এক দশকের তুলনা চলে। গণতন্ত্র হত্যা করে, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে ১৯৫৮-১৯৬৮ সালে তথাকথিত উন্নয়নের একদশক যুগ উদযাপন করেছিলেন আইয়ুব খান। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার হরণ করে আইয়ুব খানের কথিত উন্নয়ন জনগণ মেনে নেয়নি। জনগণকে বোকা বানানো যায়নি। বরং ‘৬৯ এর গণঅভ্যুথানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের নির্মম পতন ঘটে।’  
শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রিজভী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেওয়ার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি। 
রিজভী বলেন, ‘নিশিরাতের এই কর্তৃত্ববাদী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরকারের বর্তমান মেয়াদে যুগ পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্জলা মিথ্যাচার করেছেন। তার এই বিভ্রান্তিকর ও দুরভিসন্ধিমূলক ভাষণ অন্তঃসারশূন্য কথামালার ফুলঝুরি ছাড়া আর কিছুই নয়।’
তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র হত্যা, ভোটাধিকার হরণ, খুন, গুম, অপহরণ, ধর্ষণ, টাকা পাচার, দুর্নীতি-লুণ্ঠন ও দুর্বৃত্তায়ন, দুঃশাসনের একযুগ পার করলো বাংলাদেশ। বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে ক্ষমতাসীন দুষ্টচক্র মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র সাম্য-মানবাধিকার-ন্যায়বিচারকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়ে জনগণকে বোকা বানাতে তথাকথিত উন্নয়নের স্লোগান তুলেছে।’ 
রিজভীর দাবি, করোনা টিকা নিয়েও আওয়ামী সরকারের মাস্টারপ্ল্যান জনগণের কাছে পানির মতো পরিষ্কার। তিনি বলেন, ‘গতকালও প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা  বলেছেন করোনা টিকার ব্যবস্থা হয়ে গেছে। ভারতই নাকি টিকা রফতানি করবে। কিন্তু গতকালই ভারতীয় হাইকমিশনার বলেছেন,বাংলাদেশে কবে টিকা আসবে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তাহলে কি দাঁড়ালো? টিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের স্বনির্মিত মিথ্যাচারই প্রমাণিত হয়েছে।’