আজ কাপাসিয়া যাচ্ছেন সোহেল তাজ

তানজিম আহমদ সোহেল তাজসাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ  তার এলাকা কাপাসিয়ায় যাচ্ছেন আজ। সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার ধানমণ্ডির বাসা থেকে কাপাসিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় কাপাসিয়ার ডাকবাংলোয় কিছুক্ষণ অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।
গত শনিবার রাতে দুই বোনকে সঙ্গে নিয়ে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পর থেকে তার রাজনীতিতে ফেরা না ফেরা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ২০০৯ সালের ৩১ মে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান সোহেল তাজ। এরপর ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। দীর্ঘ সাত বছর পর কয়েকদিন আগে দেশে ফেরেন তিনি।  শনিবার বোন সিমিন হোসেন রিমি ও মাহজাবিন আহমেদ মিমিকে সঙ্গে নিয়ে গণভবনে গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
সোহেল তাজের কাপাসিয়া সফর বিষয়ে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমানত হোসেন খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার ধানমণ্ডির বাসা থেকে কাপাসিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন।  পরে সকাল সাড়ে ১০টায় কাপাসিয়ার ডাকবাংলোয় কিছুক্ষণ অবস্থান করবেন। এরপর সারাদিনই গ্রামের বাড়ি  দরদরিয়া ও কাপাসিয়ায় থাকবেন।

 সোহেল তাজের কাপাসিয়া যাওয়ার খবর শোনার পর থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছেন। আনুষ্ঠানিক কোনও প্রোগ্রাম না হলেও কাপাসিয়ার মানুষ তাকে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।

এদিকে, সোহেল তাজ কাপাসিয়ায় আসবেন জানার পর তার সঙ্গে কে কিভাবে দেখা করবেন,  এ নিয়ে তারা উদগ্রীব হয়ে আছেন। মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, আলেম সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ তাকে কাপাসিয়ায় গ্রহণ করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

এদিকে, রবিবার  তার বোন মাহজাবিন আহমেদ মিমি দিনব্যাপী প্রধানমন্ত্রী ও সোহেল তাজের ছবি নিয়ে জনগণের উচ্ছ্বাসের কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আমাদের কাপাসিয়া আর গাজীপুরের মানুষগুলোর অন্তর আর হৃদয় এত উষ্ণ। ঠিক ভাওয়ালের রক্তিম মাটির মতোই। অনেক ভালো লাগল আমাদের ছোট্ট কিন্তু নির্লোভ বিজ্ঞ ভাইটির প্রতি মানুষের মমতা দেখে। আবারও প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করি, নিশ্চয় অচিরেই সোহেল এমন অমলিন ভালোবাসার প্রতিদান দেবেন।

উল্লেখ্য, সোহেল তাজ ২০০৯ সালে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্র চলে যান। এরপর তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকেও সরে দাঁড়ান। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে বিপুলভাবে জয় লাভ করার পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় সোহেল তাজকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এর পাঁচ মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন।

ওই বছর ৩১ মে তিনি পদত্যাগ করে  পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু তখন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন বছর পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় ২০১২ সালের১৭ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারিরও আবেদন জানান। সেই সময় থেকে তার ব্যক্তিগত হিসাবে পাঠানো বেতন-ভাতার যাবতীয় অর্থফেরত নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে। এরপর ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন সোহেল তাজ। গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

/এমএনএইচ/