নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি ও গিবত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের বিভিন্ন স্তরে আর্থিক লেনদেনের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দলটাকে বাঁচান। টাকা-পয়সার লেনদেন, এগুলো বন্ধ করেন। কমিটি করতে টাকা লাগবে, এটা বিএনপির হতে পারে। আওয়ামী লীগ এ চর্চা করতে পারে না। টাকা-পয়সা নিয়ে মনোনয়ন—এই চর্চা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। বিষয়টি দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি আওয়ামী লীগের খিলগাঁও থানা এবং ১, ২, ৩ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি লায়ন শরীফ আলী খানের সভাপতিত্বে সম্মেলন উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী। এছাড়াও সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহ-সভাপতি শহীদ সেরনিয়াবাত, দফতর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, সদস্য সহিদুল ইসলাম মিলন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, টাকা-পয়সার লোভ দলীয় সভাপতির নেই। বঙ্গবন্ধু পরিবারের নেই। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সততা-সাহস থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, জানি আপনারা কিছু কষ্টে আছেন। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, জ্বালানির দাম বেড়েছে, মানুষের কষ্টও বেড়েছে। গরিব মানুষের কষ্ট, নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের কষ্ট আমরা বুঝি। শেখ হাসিনা বোঝেন। তাঁর (প্রধানমন্ত্রীর) রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায় আপনাদের কষ্টের কথা ভেবে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
বিএনপির সাম্প্রতিক সমাবেশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, দু-তিনটা সমাবেশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাবটা এমন যে ক্ষমতায় এসেই গেছেন। এত সোজা নয়। খেলা হবে। রাজপথে খেলা হবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ফখরুল সাহেব, কোথায় আছেন, আসুন একটু খিলগাঁওয়ে। একদিন আগে জনসভা করেছেন। এর তিন ভাগের একভাগ লোকও হয়নি। জনস্রোত তো এখনও দেখেননি। ডিসেম্বরে সমুদ্রের গর্জন শুনতে পাবেন।
বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিবাস্বপ্ন থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান পরিবর্তনের (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান রেখে সংবিধান পরিবর্তন) মতো দাবির দুঃসাহস কী করে হলো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চিন্তা বিএনপিকে মাথা থেকে নামাতে হবে। সংবিধান অনেক কচুকাটা করেছেন। জনগণ সংবিধানকে আর কচুকাটা করতে দেবে না।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির লজ্জা নেই, তাই তারা বিভিন্ন দূতাবাসে গিয়ে শুধু দেশের বিরুদ্ধে নালিশ করে। বিএনপি মনে করে ভারত আমেরিকা তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।
বিএনপিকে নালিশ পার্টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদের লজ্জা নাই দেশ বিদেশে নালিশ করে বেড়াচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ করে। নরেন্দ্র মোদি আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, এমন আশা থেকে বেরিয়ে ভোটের মাঠে আসুন।