‘বিএনপির দিনে পদযাত্রা, রাতে অ্যাম্বেসি যাত্রা’

আন্দোলন করতে করতে বিএনপির ১৪ বছর কেটে গেছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘২০১৩-১৪ ও ১৫ সালে যারা অগ্নিসন্ত্রাস করে এতদিন আত্মগোপনে ছিল, তাদের গ্রামেগঞ্জে এনে আবারও অগ্নিসন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সমগ্র দেশে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ঈদের পর, শীতের পর, গ্রীষ্মের পর, কিংবা বার্ষিক পরীক্ষার পর—এভাবে আন্দোলন করতে করতে তাদের ১৪ বছর কেটে গেছে।’

বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচির সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির কাজ হচ্ছে দিনের বেলায় পদযাত্রা আর রাতের বেলায় অ্যাম্বেসি যাত্রা। রাতের বেলা বিভিন্ন অ্যাম্বেসিতে গিয়ে কূটনীতিকদের হাতে-পায়ে ধরে পদলেহন করেন, এই হচ্ছে তাদের কাজ। এদেশে কোনও কূটনীতিক কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারেনি, পারবেও না। দেশের ক্ষমতার মালিক জনগণ। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। আগামী নির্বাচনেও জনগণের রায় নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করবে।’

শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘শান্তি সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এ ‘শান্তি সমাবেশের’ আয়োজন করেছে ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। 

বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না, শুধু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে জানে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির কতটুকু শক্তি আছে, তা আমাদের জানা আছে। রাজনীতির নামে কাউকে বিশৃঙ্খলা করতে আমরা দেবো না। সারা দেশে পদযাত্রার উদ্দেশ্য হলো অগ্নিসন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা।’

বিএনপি বুঝতে পেরেছে আগামী নির্বাচনেও তাদের কোনও সম্ভাবনা নেই, তাই তাদের নির্বাচন ভীতি পেয়ে বসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একটু বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, বিএনপির সম্ভাবনা কতটুকু। ২০০৮ সালে বিশ্ব স্বীকৃত একটি ভালো নির্বাচনে বিএনপির আসন মাত্র ২৯টি, আর উপনির্বাচনে দুটি বেড়ে ৩১টি হয়েছে। ২০১৪ সালে পরাজয় জেনে নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেছে। ২০১৮ সালে ডান-বাম, অতিডান-অতিবাম-তালেবান সবাইকে নিয়ে ঐক্য করে সাতটি আসন পেয়েছে বিএনপি।’

তিনি বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে ঐক্য করে মাঝেমধ্যে বলে ৩২ দল, কখনও ১২ দল, আবার কখনও বলে ২২ দল, আবার বলে ৫৪ দল। আসলে কত দলের যে বিএনপির জোট সেটা বলা মুশকিল। ২২ দল এবং ১২ দল মিলে ঢাকা শহরে এক জায়গায় সমাবেশ করলে সেখানে মানুষ পাওয়া যায় ৫০ জন। আর সাংবাদিক থাকে ১০০ জন। এই হচ্ছে তাদের সমাবেশ।’

মির্জা ফখরুলকে নেতা বানাতে চান না বলে বিএনপির নির্বাচনভীতির আরেকটি কারণ উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান তো নির্বাচন করতে পারবেন না। তাই তারা নির্বাচনে গিয়ে মির্জা ফখরুলকে নেতা বানাতে চান না। বিএনপির পতাকাটা তারা মির্জা ফখরুল কিংবা অন্য কারও হাতে তুলে দিতে চান না। সে কারণে তাদের নির্বাচনভীতি পেয়ে বসেছে। নির্বাচন বানচাল করার জন্য অতীতে যেমন ষড়যন্ত্র করেছে, এখনও সেই ষড়যন্ত্রের পথেই হাঁটছে বিএনপি।’

কাউকে দেশবিরোধী কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নির্বাচনে যাবেন না, নির্বাচন বর্জন করবেন। আবার সরকারকে বিদায় দিতে চাইবেন, সেটি তো দেশবিরোধী কাজ। সেই দেশবিরোধী কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না। সরকারের বিদায় চান, খুব ভালো কথা। নির্বাচনে আসুন, নির্বাচনে এসে জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। জনগণ যদি আপনাদের ভোট দেয়, তাহলে তো ক্ষমতায় যেতে পারবেন।’

দল ক্ষমতায় আসার পর যাদের আলস্য ধরেছে তাদের আলস্য ঝেড়ে ফেলার অনুরোধ জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজপথের দল এবং রাজপথ থেকেই নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। আমরা জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে রাজনীতির পথে নেমেছি, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিংবা শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য রাজনীতি করি না। জনগণের জন্য রাজনীতি করি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকুক কিংবা না থাকুক রাজপথে সবসময় থাকবে। আগামী নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন। এজন্যই ওদের মাথাটা খারাপ। ১৪ বছর যে উন্নয়ন হয়েছে, সেই উন্নয়নের প্রচার করতে হবে নেতাকর্মীদের। ১৪ বছর আগের চিত্র আর এখনকার চিত্র মানুষকে দেখান। যদি মানুষকে উন্নয়নের চিত্র আমরা সঠিকভাবে দেখাতে পারি, তাহলে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দেবে না।’

অগ্নিসন্ত্রাসীদের ধরার জন্য মানুষের দাবি আছে উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তাদের ধরতে মাঝেমধ্যে পুলিশ অভিযান চালায়। প্রয়োজনে হুকুমদাতাদেরও ধরতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশে পরিকল্পনা করে বিএনপি জামায়াত এবং মিত্ররা আবারও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

বিএনপির পদযাত্রায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়া হয়নি জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে চোর-ডাকাতরা যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। রাজনীতির নামে যারা অগ্নি-সন্ত্রাস করেছে, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, মানুষের হাত-পায়ের রগ কেটেছে, তারা যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করা আমাদের দায়িত্ব।’

ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শামীমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম ও বিশেষ অতিথি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুছ গণি চৌধুরী, উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম রাশেদুল ইসলাম, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাসন্তি প্রভা পালিত প্রমুখ।