দ্বন্দ্ব ভুলে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করুন: ফখরুল





মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরবিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করুন। এটাই হবে আমাদের সরকার বিরোধী আন্দোলনের অংশ।’
বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মান্নানের মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে অধ্যাপক এমএ মান্নান মুক্তি পরিষদ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কী হবে তা আমরা জানি। প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনের আগের রাতেই ভোটবাক্স ভরে ফেলা হবে। এসব জেনেও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।  জনগণ আরও ভাল করে দেখুক সরকার কী করছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার মামলা প্রকল্পের পরে নির্বাচনি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। একটির পর একটি নির্বাচন করবে এবং সে নির্বাচনে তারা সব দখল করে নেবে। জাতির কাছে বলবে দেখো আওয়ামী লীগ কত জনপ্রিয়। সে কারণেই তারা প্রতীক দিয়ে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করছে। তারা দেখাবে ধানের শীষ হেরে গেল আর নৌকা জিতে গেল।  জোড়াতালি দিয়ে, মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কিছু দিন টিকে থাকা যায়, বেশি দিন টেকা যায় না।’
গত কয়েক বছরে প্রায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চার লাখ ১৮ হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ্য করে ফখরুল বলেন, ‘এসব মামলায় ৩২ হাজার নেতাকর্মীকে আটক করেছে। ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা, ৪৫০ জনকে গুম, কয়েকশ নেতাকর্মীকে গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। এই হচ্ছে গণতন্ত্রের নমুনা। মানবাধিকারের অবস্থা।’
বিএনপির এই নেতা বলেন ‘জাতি গভীর সংকটে পড়েছে। পত্রপত্রিকায় লেখা
হয় বিএনপি সংকটে পড়েছে। এই সংকট শুধু বিএনপির নয়। আজকে যখন মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা দেওয়া হয়েছে এতেই প্রমাণিত হয়েছে এটা বিএনপির সংকট নয়। জাতির সংকট, মুক্তচিন্তা ও সত্যকথা বলার সংকট। কেউ মাফ পাবে না।’
গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন
আলাল, বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদুল আলম বাবুল, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুল ইসলাম, সুরুজ আহমেদ প্রমুখ। প্রতিবাদ সভা পরিচালনা করেন আহমেদ রুজবি ও মাহমুদ হাসান রাজু ।
/এসটিএস/এফএস/এপিএইচ/