দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ও বাজারি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সোমবার (২২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ এ আহ্বান জানায় তারা।

সমাবেশে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সম্পাদক ফয়জুল হাকিম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে জনগণের জীবন আজ বিপর্যস্ত। বাজারি শোষণে নিম্নবিত্ত মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ আজ দিশেহারা।

তিনি বলেন, সিন্ডিকেট গঠন করে ব্যবসায়ীরা যে লুটপাট করে চলেছে তার বিরুদ্ধে সরকার কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। কারণ এই সরকার হচ্ছে মূলত ব্যবসায়ীদের সরকার। এই লুটেরা ব্যবসায়ী শাসক শ্রেণি ১৯৭২ সাল থেকে অর্থনীতি ক্ষেত্রে অবাধ লুণ্ঠন দুর্নীতি চালিয়ে এসে এখন দানবে পরিণত হয়েছে। এই দানবদের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে রাস্তায় নামতে হবে।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের (টাফ) কেন্দ্রীয় সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাজারি শোষণের বিরুদ্ধে সরকার কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নামকাওয়াস্তে টিসিবির ট্রাক নামিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সারা দেশে পূর্ণ রেশনিং এর দাবি তুলে তিনি বলেন, রাস্তায় প্রতিবাদে নামা ছাড়া জনগণের সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা বলেন, বাজারে গেলে দেখা যায় প্রতিটি জিনিসের দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে। অথচ নিম্ন আয়ের মানুষ, শ্রমজীবী জনগণের আয় বা মজুরি বাড়েনি। সন্তান-সন্ততি নিয়ে তারা এক দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারের মন্ত্রীরা তথাকথিত উন্নয়নের ঢোলে বাড়ি মারছেন।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সম্পাদক ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে  বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের দফতর সম্পাদক এহতেশামুল হক ইমন ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সংগঠক হেমন্ত দাস। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের রফিক আহমেদ ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের অর্ণব চাকমা।