‘গত দশ বছরে ২০ দলীয় জোটকে সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি’

গত ১০ বছরে বিএনপির ২০ দলীয় জোটের একটি দলকেও সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, ‘বিচারে জামায়াতকে এখনও দণ্ডিত করা হয়নি। তাদের অধিকার আছে সমাবেশ করার। নতুন করে খেলা শুরু করতে চাচ্ছেন খেলেন, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।’

সোমবার (১২ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পরিষদের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে এক অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ হয়েছে। এই গণতন্ত্র যতদিন পুনরায় প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। মানুষের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের রাজপথে নামতে হবে।’

দেশের রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে রাজপথে তুমুল গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া কোনও পথ খোলা নেই মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং এই সরকারের পদত্যাগ ছাড়া দেশের রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে তার সমাধান হবে না।’

বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপের বিষয়ে দুদু বলেন, ‘আমির হোসেন আমু বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে সংলাপ করতে তাদের কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। আবার ওবায়দুল কাদের বললেন, তারা সংলাপের কথা বলেন নাই। একজন সংলাপের কথা বলেন, আরেকজন না করেন। তারা একটা তামাশা সৃষ্টি করেছেন। তারা জনগণের সঙ্গে তামাশা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, এই সরকারকে পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। প্রতিষ্ঠিত করতে হবে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। সংলাপ পরের বিষয়।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা হাবিবুর রহমান হাবিরের ওপর হামলা করেছে অনতিবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। এর আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের ওপর খাগড়াছড়িতে হামলা করা হয়। এই সরকার তাদের জনপ্রিয়তা হারিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতন করে আবার ক্ষমতায় থাকতে চায়।’

জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্র পরিষদের সভাপতি মোক্তার আখন্দের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে আরও ছিলেন– মুক্তিযোদ্ধা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ নুর আফরোজ জ্যোতি, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, জাতীয়তাবাদী চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবির প্রমুখ।