আওয়ামী লীগের চেহারা সবসময় দুর্নীতিগ্রস্ত: মির্জা ফখরুল

বর্তমান সরকারকে একটা ছদ্মবেশী বাটপার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, যখন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তখন বাধ্য করা হয়েছিল সাংবাদিকদের সেখানে নাম লেখাতে। কয়েকজন সেদিন সেখানে নাম লেখায়নি।

২০১২ সালে কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টের যে বাজেট পাস হলো তখনও আমরা বলেছি বর্তমান যে সরকার সেটা একটা ছদ্মবেশী বাটপার। তখন তারা ঘোষণা দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা এবং ঘোষণা না করে গণতন্ত্রের একটা ছদ্মবেশ দিয়ে, মোড়ক দিয়ে বাকশালের মতো ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। মূল কথা হচ্ছে আমার যে অধিকার সেগুলো কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমার কথা বলার অধিকার, লেখার অধিকার, সংগঠন তৈরি করার অধিকারসহ আমাদের যে ডেমোক্র্যাটিক স্পেস সেই স্পেসটাকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপনারা যে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের কথা বলছেন, এটা নিজেই যথেষ্ট সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফোরামের উদ্যোগে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি রাখা হয়েছে উল্লেখ করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসকরা অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠাতে বলছেন। কিন্তু সরকার সেটা না করে বরং বলছে অসুস্থতা নিয়ে আমরা রাজনীতি করছি। এর উত্তর দেওয়ার ভাষা আমাদের কাছে নেই। এর একমাত্র উত্তর হচ্ছে জনগণের অভ্যুত্থান।

সম্প্রতি পুলিশে রদবদল এবং পদোন্নতির যে খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার তাদের মতো করে প্রশাসন সাজিয়ে নিচ্ছে। তারা নির্বাচন শুরু করে দিয়েছে। যেমন করে বাকশাল সাজিয়েছিল।

তিনি বলেন, মানুষ জেগে উঠেছে। আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। এই আন্দোলনে জনগণের বিজয় হবে। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফোরামের আহ্বায়ক মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর শিকদারের সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এম এ আজিজ প্রমুখ।