বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্ব থেকে নানা ধরনের বক্তব্য-বিবৃতি আসছে। এসব বক্তব্য-বিবৃতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে। এ নিয়ে ক্ষোভও আছে দলটির নেতাদের। যা বুধবার (১২ জুলাই) ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে কয়েকজন নেতার বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। তারা বিদেশিদের এই অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে বিদেশিদের এই অবস্থানকে এক ধরনের হস্তক্ষেপ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
বিএনপি বিদেশিদের হাতে পায়ে ধরে ক্ষমতায় বসার জন্য ভিক্ষা চাইছে বলে সমাবেশে অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। তিনি বিদেশিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা আমাদের উন্নয়নের সহযোগী। আপনাদের আমরা সম্মান করি। কিন্তু বাংলাদেশ ৩০ লাখ শহীদের রক্তে রঞ্জিত। রক্তে লেখা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে যদি হস্তক্ষেপ করেন, তাহলে দেশের জনগণ মেনে নেবে না। আমরা ৭১ সালেও মেনে নিইনি। আপনাদের সপ্তম নৌবহর আমরা বঙ্গোপসাগরে মোকাবিলা করেছি।
বিদেশিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম। বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকার আসার সুযোগ নেই বলেও জানান সাবেক এই মন্ত্রী।
কামরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কারও করদ রাজ্য নয়। বিদেশিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ন্যাক্কারজনকভাবে কথা বলছেন। অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ চলবে না। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার জন্য ওই গোষ্ঠী প্ররোচিত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবিতে বিএনপি বিদেশি ঘটক (কূটনীতিক) ধরেছে বলে উল্লেখ করেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ওই ঘটকেরা এখনও বাংলাদেশে আছে। ৭১ সালে আমরা বহু বহু বড় দেশ মোকাবিলা করেছিলাম। সেই সময় আমাদের অনেক বন্ধু ছিল। সেই বন্ধুরা এখনও আমাদের সঙ্গে আছেন। আমাদের জয় অনিবার্য। তিনি বলেন, যারা আজ ওকালতি করছে তারাও শেখ হাসিনার পক্ষে নেবেন। তার অধীনেই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।
ঢাকায় সফররত মার্কিন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের প্রতি ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্যে বলেন, কোনও বাধা দেবো না। কাউকে আক্রমণ করতে যাবো না। ঢাকায় আজ বিদেশি বন্ধুরা এসেছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা চান ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন। আমাদের লক্ষ্য ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন। কিন্তু এই ফ্রি ফেয়ার ইলেকশনকে যারা বাধা দিতে আসবে আমরা তাদের প্রতিহত করবো।