‘অনির্বাচিত ও অবৈধ’ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করে অনতিবিলম্বে ক্ষমতাসীন সরকারকে পদত্যাগ করে অবাধ, নিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। অন্যথায় ‘মিছিলে মিছিলে’, ‘আন্দোলনে আন্দোলনে’ ও ‘স্লোগানে স্লোগানে’ সরকারকে পতনের বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ছয় দলীয় এই জোট।
শুক্রবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে ‘অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের দাবি’তে আয়োজিত গণমিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন মঞ্চের নেতারা।
সমাবেশে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘সরকার কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভুলে গেছে। এই শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজের জন্য আগামী মাসের মধ্যেই আপনাদেরই চলে যেতে হবে। এমনকি আগামীকাল রাতেও চলে যেতে পারেন। আপনি চলে যাবেন তাতে কোনও ক্ষতি নাই, সরকার আসবে সরকার যাবে এটাই নিয়ম। কিন্তু জনগণের কী হবে? গণঅভ্যুথান শুরু হয়ে গেছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। এই সরকারের মরা লাশ দাফন করতে হবে। দরকার হলে আমরা জীবন দিয়ে দেবো। আমরা দেশটা স্বাধীন করেছিলাম জনগণ যেন ভালো থাকতে পারে, তার জন্য।’
সমাবেশে অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন, আরেকবার যেন সরকারকে ক্ষমতায় রাখে। কিন্তু ভারত বলে দিয়েছে আমরা এবার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনও হস্তক্ষেপ করবো না। এর আগে তিন বামপন্থী নেতা চীনে গিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর অনুরোধ জানিয়েছে। দুনিয়ার কাছে ভিক্ষা করে বেড়াও তোমরা, আর আমাদের কথা বলো? আমরা তো রাজপথে আছি। সারা ঢাকায় মিছিল করবো। মিছিলে মিছিলে, আন্দোলনে আন্দোলনে, স্লোগানে স্লোগানে তোমাদের পতনে বাধ্য করবো।‘
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) জবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে, গায়ের জোড়ে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে, রাষ্ট্র প্রশাসনকে ব্যবহার করে অবৈধ ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করতে গিয়ে; পুরো দেশকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন। সেই কারণে বলতে চাই— আপনি যত বেশি গায়ের জোড়ে ক্ষমতায় থাকতে যাবেন, তত বেশি বৈদেশিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বাড়ছে, চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের জায়গাটা বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) কথায় কথায় বলেন, আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। আমরা ভোটের অধিকার চাই, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চাই। হাজার হাজার কোটি কোটি মানুষ দাবি করছে, এটা কোনও ষড়যন্ত্র চক্রান্ত নয়। ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে গোপনে গোপনে। কিন্তু দেশের মানুষ প্রকাশ্যে দিবালোকে এসব দাবি করছে। তাই অনতিবিলম্বে আপনাকে বিদায় নিতে হবে।’
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘এই সরকার এবং শাসন ব্যবস্থা দুটোই আমরা (গণতন্ত্র মঞ্চ) পরিবর্তন করতে চাই। এর জন্য সবার আগে আমরা সরকারকে উচ্ছেদ করতে চাই, পদত্যাগে বাধ্য করতে চাই। যদি তারা পদত্যাগ করে তাহলে তাদের জন্য, জনগণের জন্য, তাদের দালাল-চামচাদের জন্য ভালো। আর যদি তারা পদত্যাগ না করে, তাহলে আজকে ঢাকা যেমন মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে, তেমনি সারা দেশ মিছিলের দেশে পরিণত হবে।’
সমাবেশ শেষে তারা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল শুরু করে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ করে। ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসানসহ মঞ্চের অন্যান্য নেতারা।