সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের মুখপাত্র ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ বলেছেন, ‘নিরাপরাধ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী হাফেজ রেজাউলকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রাজপথে নির্মমভাবে খুন করেছে। এই খুনের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা জড়িত, তা এখন জাতির কাছে স্পষ্ট। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশের ছাত্রসমাজ প্রত্যাশিত কোনও পদক্ষেপ দেখেনি। এ হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক বিবেচনায় না দেখে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর প্রেস ক্লাব চত্বরে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের মুখপাত্র বলেন, ‘হাফেজ রেজাউলের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী ছাত্রসমাজ গণআন্দোলন গড়ে তুলবে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আওয়ামী সরকারের পকেট কমিশনে পরিণত হয়েছে। বর্তমান কমিশনের মাধ্যমে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি রোধের পরিবর্তে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসের ভিসি পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদকে বর্তমান সরকার দলীয় পদে পরিণত করছে।’
তিনি দেশের নানাবিধ সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য যেকোনও জাতীয় সংকটে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে জানানো হয়, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পেশ করবে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন–ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিজাম উদ্দিন আল আদনান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা জুয়েল, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মুহাম্মাদ খালিদ সাইফুল্লাহ, বাংলাদেশ মুসলিম ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ নূর আলম, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মুহাম্মদ প্রিন্স, ভাসানী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আহাম্মেদ শাকিল, বাংলাদেশ ছাত্র মিশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ মিলন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের মহাসচিব বিএম আমির জিহাদী, বাংলাদেশ কওমী ছাত্র ফোরামের সদস্য সচিব জামিল সিদ্দিকী প্রমুখ।