নারী ও শিশু ধর্ষণ, সহিংসতা বন্ধ করে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং অবিলম্বে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে কেন্দ্রের উদ্যোগে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘আজ দেশে এক চরম অরাজকতা বিরাজ করছে। দুনীর্তি-লুটপাট-চুরি চলছে অবাধে। লুটপাটকারীদের রক্ষা করছে সরকার। পরিণামে জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া। কতিপয় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি সব কিছুর দাম বাড়ছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকেই যেহেতু গৃহস্থালি কাজ দেখতে হয় সেহেতু জীবনযাপনের ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের ওপর নেমে আসে সংসারের নানান দুঃশ্চিন্তা।’
তারা বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকরা প্রতিবছর রেমিট্যান্স আনছে, অথচ তাদের মজুরি বাড়ছে না। প্রবাসে নারী শ্রমিকরা যারা গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করছে, তারা সেখানে পশুর মতো জীবনযাপন করছে। কিন্তু তাদের নিয়ে সরকারের কোনও মাথাব্যথা নেই।’
বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের নেতারা বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্তরাও আজ টিকে থাকার নীরব সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে যাতে কেউ কোনও প্রতিবাদ করতে না পারে তার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালা কানুন তৈরি করেছে সরকার। পাশাপাশি মদ-জুয়া-ভিডিও গেম-পর্নোগ্রাফি-ধমীর্য় বক্তৃতার নামে কূপমণ্ডূক-সাম্প্রদায়িক-অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ নারী বিদ্বেষী বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নারী সম্পর্কে হীন মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিবাদের শক্তিকে ধ্বংস করা হচ্ছে।’
তারা আরও বলেন, ‘দেশে আজ গণতন্ত্র নেই। মানুষের ন্যূনতম যে ভোটের অধিকার তাও নেই। প্রতিমুহূর্তে সংবিধান ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। আমরা সরকারের পদত্যাগ চাই। নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করি।’
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক তৌফিকা লিজা ও ঢাকা নগরের সদস্য সুস্মিতা রায়।