স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন হলে বিএনপি ও জিয়া অবৈধ প্রমাণিত হবে: শেখ পরশ

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, যুবসমাজের আজকের জিয়াউর রহমানে মরণোত্তর বিচার ও জাতীয় তদন্ত কমিশনের দাবি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শুধু জিয়াউর রহমানের প্রকৃত চেহারা উন্মোচিত হওয়ার জন্য না, এই তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে সংগঠন হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে জিয়াউর রহমান উভয়ই অবৈধ এবং এই তদন্ত কমিশনের রিপোর্টই বিএনপির নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ করার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বুধবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় জাদুঘরের সামনে যুবলীগের উদ্যোগে ‘মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস’ স্মরণে করা এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, একাধিক কারণে জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন অবৈধ রাষ্ট্রপতি। তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে এক একটি অবৈধ সামরিক ফরমান জারি করে গেছেন। বাংলাদেশ আর্মি অ্যাক্টে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে, চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ নির্বাচন কিংবা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। কিন্তু ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান নিজেকে একক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করে ‘হ্যা কিংবা না’ ভোটের তামাশার নির্বাচন করেন। আবার ১৯৭৮ সালে বিএনপি দলটি প্রতিষ্ঠার সময়ও তিনি ছিলেন সেনা প্রধান। নির্বাচন কিংবা দল গঠন সবই ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি ও আইনের বরখেলাপ। যা রাষ্ট্রদ্রোহিতারও শামিল।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই ঘটনায় লাভবান হয়েছে শুধু জিয়াউর রহমান ও উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। আর পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। স্বাধীন বাংলাদেশে রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বরের ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর দেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ‘বিপ্লব ও সংহতির’ নামে একটি মিথ্যা আজগুবি তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির যুগে মানুষ এখন সঠিক তথ্য পাচ্ছে। মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না। বিশ্বাসঘাতক জিয়াউর রহমানকে আর নায়ক বানানো যাবে না, বাঙালির ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী খলনায়ক হিসেবে স্থান পাবে জিয়াউর রহহমান।

যুবলীগ চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল প্রমুখ।