বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচারে তদন্ত কমিশন করতে সরকারকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে আমরা একটা চিঠি সরকারকে দিয়েছিলাম। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনঃতদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা সন্তুষ্ট যে তারা দ্রুত এ ব্যাপারে অগ্রসর হয়েছেন।’

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলের এই প্রত্যাশার কথা জানান।

এর আগে, সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের অন্তবর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা আমাদের চিঠিতে একটি তদন্ত কমিশন স্থাপনের করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। একটা কমিশন যদি তারা করে এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার করে তাহলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা আশা করি।’ এ সময় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পুনঃতদন্তে ‘আসল রহস্য’ উন্মোচিত হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হৃদয়বিদারক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও সুদূর প্রসারি কার্যক্রম রয়েছে এই দেশকে একটা পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার, যাদের কোনও শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকবে না। এই পুনঃতদন্তে সেই রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

পুনঃতদন্তের কোনও সময়মীমা বিএনপি দেবে কিনা প্রশ্ন করা হলে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় সময় দিতে চাই এই তদন্ত কমিটিকে। আমরা আশা করি দ্রুত তারা তদন্ত এবং বিচারের কাজ সম্পন্ন করবে। সময়সীমা বেঁধে দেওয়া অত্যন্ত মুশকিল।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা তদন্ত কমিশনের জন্য অনুরোধ করেছি। সরকার যদি মনে করে এখন যে পুনঃতদন্ত ও পুনঃবিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার পাশাপাশি একটা কমিশন গঠন করবে, সেই কমিশনে অনেকের অনেক কিছু বলার থাকবে। যেটা আগে বলতে পারেনি।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ এবং অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম।

২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তা এবং আরও ১৭ জন নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হন।