প্রথমত, কাউন্সিলের কোনও কাজে সম্পৃক্ত না করায় সিনিয়র বেশ কয়েকজন নেতা ক্ষুব্ধ। দ্বিতীয়ত, লন্ডনে বসাবাসরত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ভাঙিয়ে এখনই গঠনতন্ত্র সংশোধনের নানা প্রস্তাবসহ কমিটিতে পদ-পদবী পাওয়ার তদবির শুরু হয়েছে। তৃতীয়ত, স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে একটি অংশ কাউন্সিলে প্রভাব বিস্তার করে দলের কর্তৃত্ব হাতে নিতে চাইছে। চতুর্থত, কাউন্সিলে দুপুরের ‘খাবার’ নিয়ে খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং পঞ্চমত, স্থায়ী কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব থাকায় অগুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যেও উচ্চাকাঙ্খা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে দলটির মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে।
সূত্র মতে, অস্থিরতার সর্বশেষ উদাহরণ হলো- গঠনতন্ত্র সংশোধন সংক্রান্ত বাছাইয়ের জন্য গঠিত উপ-কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে নেতাদের মধ্যে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনা। গত শুক্রবার চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মোহম্মদপুরের বাসায় ওই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বৈঠকে কমিটির আরেক নেতা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান লন্ডনে বসবাসরত তারেক রহমানের নামে একাধিক সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। একজন অতিরিক্ত মহাসচিব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।’ এছাড়া স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্মমহাসচিবসহ সব পদের সংখ্যাও তিনি আগের চেয়ে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘ওগুলো সবই তিনি (তারেক রহমান) দিতে বলেছেন।’
সূত্র জানায়, তারেক রহমানের নামে দেওয়া এসব প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ইকবাল হাসান টুকু বলেন, ‘ঢালাওভাবে তারেক রহমানের নামে প্রস্তাব দিয়ে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দলের জন্য প্রয়োজন এবং বাস্তবসম্মত প্রস্তাব বাছাই করার জন্য এই বৈঠক। সুতরাং সবাইকে পজেটিভ অ্যাপ্রোচ নিয়ে কথা বলতে হবে।’
সূত্র মতে, আহমেদ আজম বৈঠকে বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে তাকে অপমান করা হচ্ছে।’
এক পর্যায়ে তিনি টুকুর বিরুদ্ধে চেয়ারপারসনের কাছে নালিশ করার হুমকি দেন।
জবাবে টুকু বলেন, ‘আপনি যান, চেয়ারপারসনের কাছে নালিশ করেন। তিনি আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করলে করবেন।’
তারেক রহমানের নামে একের পর এক প্রস্তাব দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির আরেক সদস্য ড. আসাদুজ্জামান রিপন। এ সময় আহমেদ আজমের সঙ্গে তারও বচসা শুরু হয়।
রিপন বলেন, ‘তারেক সাহেবের নাম ব্যবহার করে আজম সাহেব এভাবে আপনি প্রস্তাব দিতে পারেন না।’
জবাবে আহমেদ আজম বলেন, ‘আপনি আমাকে নাম ধরে সম্বোধন করলেন কেন? আমি উপদেষ্টা, আপনি কে?’
আজম অভিযোগ তুলে আরও বলেন, ‘আপনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে কটাক্ষ করে কথা বলছেন। তার কাছে অভিযোগ যাবে।’ জবাবে রিপন বলেন, ‘যান অভিযোগ করেন।’
তুমুল বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ের বৈঠক থেকে রাগ করে বেরিয়ে যান বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
উল্লেখ্য, আয়কর আইনজীবী হিসেবে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের আয়কর ফাইল দেখাশোনা করেন আহমেদ আজম খান। খালেদা-তারেকের এ সংক্রান্ত মামলারও তিনি আইনজীবী। প্রায়ই বিএনপির শীর্ষ এই দু’নেতার সঙ্গে তার আলোচনা ও কথাবার্তার সুযোগ হয়। আর এ কারণেই দলে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পান তিনি। সম্প্রতি এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থায়ী কমিটি সদস্য হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে ১৯টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও ড. আরএ গনি মারা যাওয়ায় এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় তিনটি পদ খালি। এছাড়া অসুস্থ ও নিষ্ক্রিয় থাকায় বাদ দেওয়া হবে এম. শামসুল ইসলাম ও বেগম সারোয়ারি রহমানকে। সব মিলিয়ে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে সদস্য সংখ্যা বাড়ানো না হলে এই পাঁচটি পদই পূরণ করবেন খালেদা জিয়া। কিন্তু ইতোমধ্যে স্থায়ী কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে সংখ্যা বাড়ানোর জন্য গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটিতে একাধিক প্রস্তাব এসেছে। আর তাই ওই পদের জন্য শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ।
সূত্র মতে, পাচঁটি পদের বিপরীতে যাদের নাম আলোচনায় আছে, তাদের মধ্যে নিশ্চিত হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভারমুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হবেন। অন্য চার পদের বিপরীতে অন্যতম হলেন- উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ মুহূর্তে বিএনপিতে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী। অনেকের মতে, স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ পাওয়া তার একরকম নিশ্চিত। এছাড়া দলের সিনিয়র নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও সাদেক হোসেন খোকার নাম আলোচনায় আছে সবার আগে। কিন্তু চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আমির খসরুকে করা হলে নোমান ওই পদ পাবেন কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে ঢাকা বিভাগের কোটায় শেষ পর্যন্ত খোকা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
পাচঁজনের আলোচনায় সিনিয়র নেতা হিসেবে ড. ওসমান ফারুক, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামও আছে। এছাড়া আরেক উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদের নামও কেউ কেউ বলছেন।
ওদিকে ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে তালিকার শীর্ষে আছেন বিচারপতি টিএইচ খান ও এম. মোর্শেদ খান। তবে এ পদে অন্যদের জায়গা হলে তাদের কীভাবে বাদ রাখা হবে এ নিয়েও প্রশ্ন আছে।
সূত্র মতে, সিনিয়র নেতাদের সমন্বয় করার প্রশ্নেই স্থায়ী কমিটির পদ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। প্রস্তাব এসেছে, ওই সংখ্যা ২২ থেকে ২৬ করার। আর যখনই এ আলোচনা গতি পেয়েছে, দলের নেতাদের বড় একটি অংশ মনে করছেন তারা সবাই ওই পদের জন্য উপযুক্ত।
যারা ওই পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে, তারা হলেন- উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। আবার রিপনকে করা হলে আরেক উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুর নামও চলে আসে। এছাড়া সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব পদে মোহম্মদ শাহজাহানকে পদায়ন করা না হলে তাকে স্থায়ী কমিটিতে নেওয়া উচিৎ বলে অনেকে মনে করেন। শাহজাহানকে স্থায়ী কমিটিতে নেওয়া হলে নাম চলে আসে দুই যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সালাহউদ্দিন আহমেদের। সব মিলিয়ে বিএনপিতে এই মুহূর্তে ১৫ থেকে ২০ নেতার স্থায়ী কমিটিতে যাওয়ার আকাঙ্খা তৈরি হয়েছে। একইভাবে ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্মমহাসচিব পদেও আগের চেয়ে আগ্রহী প্রার্থী বেড়েছে। ফলে খালেদা জিয়া কীভাবে সবকিছু সমন্বয় করবেন এ নিয়ে নানা আলোচনা বিএনপিতে ঘুরপাক খাচ্ছে।
বলা হচ্ছে, ২০০১ সালে সরকার গঠনের সময়কার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিএনপিতে। ওই সময় ৬০ সদস্যের মন্ত্রিসভা করার কারণে দলের দুই শতাধিক সংসদ সদস্যই মনে করতে থাকেন তারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হওয়ার উপযুক্ত। বড় মন্ত্রিসভা ছোট করার জন্য যদিও পরে কয়েকজনকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই সময় মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়া এবং মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে শেষ পর্যন্ত বিএনপি ভেঙে যায়। সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের দু’দিন আগে ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর অলি আহমেদের নেতৃত্বে ৩১ জন্য এমপি-মন্ত্রী বিএনপি থেকে বেরিয়ে এলডিপি গঠন করেন।
স্থায়ী কমিটির প্রবীণ এক নেতার মতে, স্থায়ী কমিটিকে গুরুত্বহীন করা হয়েছে গত কাউন্সিলের পর গঠিত কমিটিতে যুগ্মমহাসচিব মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে অন্তর্ভুক্ত করে। ওই দুই নেতাকে সর্বোচ্চ ফোরামে নেওয়ায় এখন দলের বড় অংশই মনে করছেন তারা ওই পদের উপযুক্ত।
জানা গেছে, ভাইস চেয়ারম্যানের সংখ্যা ১৭ থেকে ২৫, যুগ্মমহাসচিবের পদ ৭ থেকে বাড়িয়ে ১২ অথবা ১৫, সাংগঠনিক সম্পাদক ৬ থেকে ১১, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ৭ থেকে বাড়িয়ে ৮, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ১ থেকে বাড়িয়ে ৩ জন করার প্রস্তাব আছে। এছাড়া খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক নতুন একটি পদ সৃষ্টিসহ সম্পাদকীয় বেশ কয়েটি পদে একাধিক সহসম্পাদক করার প্রস্তাব আলোচনায় আছে গঠনতন্ত্র সংশোধনী সংক্রান্ত কমিটিতে।
এদিকে, কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলে কর্তৃত্ব স্থাপনের চেষ্টা করছেন স্থায়ী কমিটির ১৬ নম্বর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি একাই প্রচার ও ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটির আহ্বায়ক। ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব তিনি পেয়েছেন মূলত কারাগারে থাকা মির্জা আব্বাসের প্রতিনিধি হিসেবে। কাউন্সিলের পোস্টার ছাপা থেকে শুরু করে মঞ্চ নির্মাণ এবং ঢাকাকে সাজানো সবকিছুর দায়িত্বেই গয়েশ্বর। আর প্রচারের সুযোগ নিয়ে প্রতিদিনই তিনি প্রতিপক্ষের নেতাদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিছুদিন আগে ‘বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধের মতো প্রাণ হারিয়েছেন’ বলে বক্তব্য দিয়ে সারা দেশে বিতর্কিত হয়েছেন তিনি। মূলত মক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্য সমর্থন করতে গিয়েই এ কথা বলেন গয়েশ্বর। উদ্দেশ্য ছিল খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ হওয়া। এক্ষেত্রে তিনি কিছুটা সফলও হয়েছেন বলে বিএনপির অনেকে মনে করেন। গয়েশ্বর সমর্থকদের মূল লক্ষ্য মির্জা ফখরুল, সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল্লাহ আল নোমান ও মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদসহ দলের বড় একটি অংশকে ঠেকিয়ে রেখে বিএনপিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এ কাজে তাকে সমর্থন করছেন দফতর সম্পাদক রিজভী আহমেদ, যুগ্মমহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু, দলীয় নেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়াসহ আরও অনেকে।
আবার আব্বাস-গয়েশ্বরের সমর্থক বলে পরিচিত স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামকে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। অথচ গত কয়েকবছর ধরেই শারীরিকভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ তরিকুল। এখনও তিনি বারডেম হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন; যে কারণে কমিটির দু’একটি বৈঠক ইতোমধ্যে বাতিলও হয়েছে।
অন্যদিকে, ড্রাফটিং কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে। কিছুদিন আগেই সিঙ্গাপুরে মেরুদণ্ডের অপারেশন করিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। জানা গেছে, তরিকুলের অসুস্থতার কারণে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির অনেক কাজও পড়েছে এখন নজরুল ইসলাম খানের ওপর। তিনি দুই কাজে এখন হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠরা।
সিনিয়র নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, লে. জে, (অব.) মাহবুবুর রহমানসহ অনেক নেতাকে কাউন্সিলের কোনও কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়নি। তারা এখন পুরোপুরি অলস সময় পার করছেন। এই নেতাদের কেউ কেউ ঘনিষ্ঠজনদের বলেছেন, চেয়ারপারসন গুরুত্বপূর্ণ মনে করেননি বলেই হয়তো কাউন্সিলের দায়িত্বের বাইরে রেখেছেন। কেউ কেউ আবার বাইরে রাখার এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতিও করছেন। বিশেষ করে গয়েশ্বর সমর্থকরা এতে খুশি হয়েছেন। জানতে চাইল ওই নেতাদের কেউই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র মতে, দুপুরের খাবারের আয়োজন করতে গিয়ে কাউন্সিলে বড় ধরনের ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে বলে বিএনপির মধ্যে এখন আলোচনা চলছে। কারণ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারদিক থেকে খোলা জায়গায় একদিকে নেতাকর্মীদের আগমন ঠেকানো কঠিন হবে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষও কাউন্সিল দেখতে হাজির হতে পারে সেখানে। ফলে কত লোক হবে এবং কত লোকের জন্য দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করা হবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট আপ্যায়ন কমিটির নেতারা চিন্তায় পড়েছেন। ২০০৯ সালের কাউন্সিলে ১০/১২ হাজার আমন্ত্রিত অতিথি থাকলেও মোট ৪৫ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছিলো। ওই কাউন্সিলের আপ্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। তিনি তখন ঢাকা সিটির মেয়র ছিলেন। তার হাতে ছিলো ৬০ থেকে ৭০ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। মূলত তাদের তত্ত্বাবধানেই সুষ্ঠুভাবে খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হয়। মেয়র খোকার নিজের ও বিরোধী দলীয় তৎকালীন নেতা খালেদা জিয়ার পুলিশ প্রটেকশন ছিলো; যা এবার নেই। খোকা নিজেও এখন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন। তার প্রতিনিধি হিসেবে এ দায়িত্ব এবার দেওয়া হয়েছে মহানগরীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালামকে। এবার লক্ষাধিক লোক সমাগম হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কাউন্সিলে আপ্যায়নের ব্যবস্থা না করার পক্ষে মতামত ছিলো বেশ কয়েকজন নেতার। তারা বলেছেন, চেয়ারপারসন দলের দুর্দিনের কথা তুলে ধরে ‘একবেলা খাবারের জন্য আমার নেতাকর্মীরা আসেনি’ এ ধরনের কথা বলে বক্তৃতা দিলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। কারণ একবেলা খাওয়ার মতো সামর্থ সবারই আছে। তাছাড়া সরকারের উস্কানি থাকতে পারে এবং পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও ব্যবস্থা নেবে না এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরেই কয়েক নেতা আপ্যায়নের বিপক্ষে ছিলেন। কিন্তু বৈঠক চলার সময় গুলশান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নিউইয়র্কে খোকার সঙ্গে কথা বলে জানান, খোকা দুপুরে আপ্যায়নের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন।
জানতে চাইলে খোকা টেলিফোনে বলেন, ‘দলের অনুরোধে আমি রাজি হয়েছি। কিন্তু আপ্যায়ন থাকবে নাকি থাকবে না সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। তবে সবদিক বিবেচনায় এবারে সুষ্ঠুভাবে সব কাজ সমাধা করা কিছুটা কঠিন।’
অবশ্য স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান মনে করেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঠিকই সবদিক সামাল দিতে পারবেন। তার মতে, বড় একটি দলের কাউন্সিলে একটু-আধটু ঝামেলা হতেই পারে।
তিনি স্বীকার করেন, দলের কিছু নেতা সব সময়ই পদ-পদবীকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি করেন।
দলের ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘কাউন্সিলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। সে কারণে এখন হয়তো মনে হচ্ছে কঠিন। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরাই দলের খারাপ সময়ের কথা বিবেচনায় রেখে সামাল দেবে। সরকার উস্কানি না দিলে সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই সম্পন্ন হবে।’
/এজে/