নির্বাচনি প্রচারণায় হামলা করে কেন্দ্র দখলের ‘প্র্যাকটিস ম্যাচ’ শুরু হয়ে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এনসিপি প্রার্থী আদিবের ওপর হামলা এবং ২৪-পরবর্তী সময়ে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রমে দলীয় পরিচয়ে বিএনপির নামে যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে, তা পুরো নির্বাচনি পরিবেশের জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা দমন-পীড়ন ও কেন্দ্র দখলের বার্তাই বহন করে।
তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে ঘিরে যেন একটি ‘প্র্যাকটিস ম্যাচ’ শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, কেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রতিপক্ষকে দমন করার প্রবণতা তৈরি করা হয়।
হাসনাত বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় শুনেছি— যদি প্রতীকে ধানের শীষ না থাকে বা নির্দিষ্ট কোনও প্রতীক না থাকে, তাহলে প্রয়োজনে বাড়ি থেকে তুলে এনে ওই প্রতীকে ভোট দেওয়ানো হবে— এ ধরনের বক্তব্য আগেও শোনা গেছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় প্রতিপক্ষের প্রচার কার্যক্রমে হামলা, ভয় দেখানো এবং আক্রমণাত্মক আচরণ একটি উদ্বেগজনক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ।
ভোটারদের হেনস্তার অভিযোগ করে তিনি বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে তাদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার মতো বক্তব্যও বিভিন্ন সময়ে শোনা গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি নির্বাচন দিন পর্যন্ত একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এসময় বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় এনসিপি নির্বাচন ও প্রশাসন সমন্বয় উপকমিটির সেক্রেটারি আয়মান রাহা বলেন, দেশব্যাপী নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। রাত ৮টার পর মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও রাত ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বড় সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে একাধিক স্থানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে দেশব্যাপী একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে যে, নির্বাচনি আচরণবিধি মানার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনে সরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনা নির্বাচন বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একইভাবে ঢাকা-১৭ আসনে পোস্টার নিষিদ্ধ থাকার পরও বিভিন্ন স্থানে পোস্টার টানানোর ঘটনাও নজরে এসেছে।
ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে আয়মান রাহা বলেন, অতীতে নির্বাচনে যেসব কর্মকর্তা বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের অনেককেই এবার প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করছে।