খালেদা জিয়ার নির্দেশ উপেক্ষা, ছাত্রদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি নেই ছাত্রদলে

খালেদা জিয়াসাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনও কার্যক্রমে নেই  ছাত্রদল। সোহাগী জাহান তনুসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনও কর্মসূচি নেই বিএনপির এই ছাত্র সংগঠনটির। এছাড়া, শিক্ষাবিষয়ক কোনও বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না ছাত্রদল। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ‘ছাত্র-স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিলেও তা গত তিনমাসেও কার্যকর হয়নি। তবে, ছাত্রদল নেতারা দাবি করেছেন, দুটি কারণে তারা স্বনামে কর্মসূচি না দিলেও বিভিন্ন সামাজিক, অ্যাক্টিভিস্ট সংগঠনের ব্যানারে তারা তনু ইস্যুতে প্রতিবাদ করেছেন।
ছাত্রদল নেতারা বলছেন, তারা দুটি কারণে তনু হত্যা ও ধর্ষণ বিষয়ে স্বপরিচয়ে প্রতিবাদ বা কর্মসূচিতে যাননি। এর একটি হচ্ছে, তনু হত্যা ও ধর্ষণ বিষয়ে ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বাধীন গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় আন্দোলন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, একটি ধর্ষণ ও হত্যাকে কেন্দ্র করে পুরো সেনাবাহিনীকে দায়ী করার প্রচেষ্টা। ছাত্রদলের নেতারা দাবি করছেন, একটি হত্যা দিয়ে পুরো বাহিনীকে দোষারূপ করা ঠিক নয়।
সংগঠনের মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সরদার আমিরুল ইসলাম সাগর বলেন, ইমরান এইচ সরকারের মাত্রাতিরিক্ত সক্রিয়তায় আমাদের সন্দেহ আছে। তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা বাজারে প্রচলিত আছে। আর তনু ধর্ষণ ও হত্যার বিচারসহ সারাদেশের খুনের বিচার আমরা চাই, কিন্তু একটি ঘটনা দিয়ে একটি বাহিনীকে আক্রমণ করা ঠিক নয়। এ কারণে আমরা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছি। এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুও বলেছিলেন, তনু হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি তনু হত্যাসহ ছাত্র ও শিক্ষা সম্পর্কিত কোনও ইস্যুতেই কর্মসূচি দেয়নি ছাত্রদল। এ নিয়ে সামান্যতম আগ্রহও দেখা যায়নি সংগঠনটির। যদিও গত ৩১ জানুয়ারি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ছাত্রদলের অভিভাবক খালেদা জিয়া নির্দেশ দিয়েছিলেন, ছাত্রদের স্বার্থ নিয়ে ছাত্রদলকে কাজ করতে। পাশাপাশি ব্যানার, লিফলেট, স্লোগানেও পরিবর্তন আনতে। ওই সময় তিনি ছাত্রদলের উদ্দেশে বলেছিলেন, যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে-সঙ্গে তোমাদেরও পরিবর্তন হতে হবে। খালি স্লোগান দিলেই চলবে না। কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষা অধিকার নিয়ে কথা বলতে হবে। যদিও তিনমাস পার হলেও খালেদা জিয়ার নির্দেশ মানার মতো কোনও কর্মকাণ্ড শুরুই করতে পারেনি ছাত্রদল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী বলেন, আমরা তো একের পর এক কর্মসূচি দিচ্ছি। আমাদের ক্যাম্পাসে ঢুকতেই দেওয়া হয় না। এরপরও আমরা ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি দিচ্ছি। আমরা হয়তো সব খবর আপনাদের দিতে পারি না। বা আপনারা নানা কারণে ছাপতে পারেন না। তনু হত্যার বিষয়ে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, আমরা ঘটনার পরই বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি। কুমিল্লায় যে আন্দোলন হয়েছে, সেখানেও আমরা ছিলাম। তবে যেহেতু সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলন হয়েছে, সেহেতু আমরা ব্যানার ব্যবহার করিনি। 

নয়া পল্টনসহ রাজধানীর কিছু এলাকায় ছাত্রদল নেতাদের যে পোস্টার লাগানো হয়েছে, সবগুলোই বড়ভাই সুলভ। প্রতিটি পোস্টারেই বড় ভাইদের ছবিসহ ছোটভাইদের ছবি দেওয়া।

চলতি মাসে ছাত্র সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি না দিলেও  গত ৩০ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে নয়াপল্টনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। দুদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রদল। শনিবার দেশের সব জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং রবিবার দেশের সব থানা, পৌর ও কলেজগুলো এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হওয়ার ঘোষণাও দেয় সংগঠনটি।

জানতে চাইলে ছাত্রদলের প্রথম সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তনু ইস্যুতে আমরা মাঠে আছি। প্রতিবাদ এবং সমাবেশ করছি। তবে, সাংগঠনিক পরিচয়ে কর্মসূচি দেওয়ার কথা চিন্তা করবে সংগঠনের নীতি-নির্ধারকরা। তিনি জানান, আমরা ছাত্রদলের সরাসরি পরিচয়ে না হলেও সম্প্রতি অনলাইন ভিত্তিক সংগঠন ‘অনলাইন এক্টিভিস্ট কাউন্সিল অব বাংলাদেশ’ ব্যানারে  জাতীয়তাবাদী সমমনা তরুণরা মিলে প্রতিবাদ করেছি। ওই অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

/এমএনএইচ/