এদিকে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রবিবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তর-দক্ষিণের কমিটি ঘোষণা করা হবে। কারা থাকবেন সেই কমিটিতে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে জানতে পারবেন।
তবে, দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদই নয়, ইতোমধ্যে নগরীর উত্তর ও দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি, থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটির তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তরে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একে এম রহমতউল্যাহকে সভাপতি ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের নেতা সাদেক খানকে সাধারণ সম্পাদক করা হচ্ছে। দক্ষিণে লালবাগ থানা আওয়ামী সভাপতি আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। নানা বিবেচনায় মায়াকে এবার নগরের দায়িত্বে আর রাখা হচ্ছে না। এছাড়া, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামসহ মহানগর কমিটির প্রায় ডজনখানেক পুরনো নেতাও বাদ পড়তে পারেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য জানান, পুরনো ঢাকার প্রতি দলের সভাপতি শেখ হাসিনার এক ধরনের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। এরই অংশ ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি পদে একজন ‘ঢাকাইয়া’কে মনোনীত করতে চাইছিলেন তিনি। সে ক্ষেত্রে এমএ আজিজের জায়গায় দক্ষিণের সভাপতি হতে পারেন লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত।
পুরনো নেতৃত্ব বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, সংগঠনে পুরনো নেতৃত্ব বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্বভার তুলে দিতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সংগঠনের ভেতরে প্রাণসঞ্চার করতেই নেত্রী (শেখ হাসিনা) নতুন নেতৃত্বের প্রতি ঝুঁকেছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক ফারুক খান বলেন, রবিবার (১০ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা হতে পারে। সম্ভাবনার কথা জানান দক্ষিণের সমন্বয়ের দায়িত্ব পাওয়া নেতা আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাক।
২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা মাহনগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলন হলেও মহানগর আওয়ামী লীগ বিভক্ত-অবিভক্ত নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও নেতৃত্ব ঠিক করতে না পারায় কমিটি আর ঘোষণা করা হয়নি। পুরনো কমিটি দিয়ে চলে আসছিল ঢাকা মহানগরের রাজনীতি।
এর আগে ২০০৩ সালের ১৮ জুনের সম্মেলনে ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফকে সভাপতি ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুর পর তৎকালীন সহ-সভাপতি ওমর আলী কিছু দিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসলে অন্য সহ-সভাপতি এমএ আজিজ ভারপাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সভাপতিই ছিলেন তিনি। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি এম এ আজিজের মৃত্যুর পরে সভাপতি পদটি এখনও শূন্য রয়েছে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এম এ আজিজ ও নুরুল ইসলামের স্মরণ সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, শিগগিরই নগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হবে।
সেদিন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের জন্য আমরা দুটি কমিটির খসড়া করেছিলাম। এটা নিয়ে আমরা একদিন বসেছিলাম। সেখানে আমরা তাকে (এম এ আজিজ) সভাপতি করেছিলাম। এটা নিয়ে আরেক দিন বসার কথা ছিল। কিন্তু আমি এত ব্যস্ত ছিলাম যে, আর বসা হয়ে ওঠেনি। এর মধ্যে তিনি মারা গেলেন। আমরা এই কমিটিগুলো দেব।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এক-এগারোর প্রেক্ষাপটে ও সিটি নির্বাচনে যারা দলের পক্ষে কাজ করেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলা করেছেন, কমিটিতে তাদের সম্মান দিতে হবে।
মহানগর কমিটি গঠনের সঙ্গে যুক্ত নেতারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন দুভাগ হওয়ায় প্রথমবারের মতো ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ মহানগরের আলাদা দুটি কমিটি করে দলীয় সভাপতির কাছে জমা দিয়ে রেখেছিলেন। ২০১৫ সালের শেষের দিকে তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে খসড়া কমিটি জমা দেন।
/এমএনএইচ/