একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, দেশে গণতন্ত্র নিহত হয়েছে। এই সরকারের আমলে অনেক নির্বাচন হলো। নজিরবিহীন কারচুপি হলো। বিরোধী দলের প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। গত সংসদ নির্বাচনে ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হয়ে গেলেন সরকারদলীয় লোকজন। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে নাই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের গণতন্ত্র হলে আপনার কোনও লাভ হবে না। বরং এই ভোট একদিন আপনাকেও পরাজিত করতে পারে।
বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি একদিন (১ বৈশাখ) ইলিশ মাছ খাবেন না। একদিন না খেলে কিছুই হবে না। সস্তা হলে খাবেন। কিন্তু আপনি মানুষকে উৎসব থেকে বিরত রাখতে পারেন না। বিকাল ৫টার পর কোনও অনুষ্ঠান করা যাবে যাবে না, এ কেমন কথা? এ ক্ষেত্রে পুলিশের কোনও দোষ নেই উল্লেখ করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, পুলিশ ওপরতলার মানুষের নির্দেশে চলে। কিন্তু তাদের প্রধান দায়িত্ব মানুষের জীবন রক্ষা করা। যা পালন করতে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে জনগণের হাজার হাজার কোটি ডলার চুরি হয়ে গেল। কিভাবে চুরি গেল, কত ডলার চুরি হলো, তার সঠিক হিসাবও প্রকাশ করা হলো না। এর দায়-দায়িত্ব একমাত্র সরকারের এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের। শেয়ার মার্কেট ডুবল। অনেক তরুণ পথে বসলেন। তিনি প্রশ্ন করেন এর নাম গণতন্ত্র? এর নাম উন্নয়ন?
আরও পড়তে পারেন: নববর্ষ উদযাপন: নিরাপত্তায় যত বাড়াবাড়ি
দেশে খুন, গুমের কিনারা করতেও এ সরকার ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, সাগর-রুনি হত্যার বিচার তো দূরের কথা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকেও এ পর্যন্ত আটক করা হয়নি। তনুর ভাইয়ের বন্ধুকে আটক করে কোথায় নেওয়া হলো, কী করা করা হলো, এখন ছেলেটি কথা বলতে পারে না। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষে যেমন হিসাবনিকাশ করা হয়, তেমনি বর্তমানে আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার হিসাব করতে হবে। দেশের উন্নয়নে বি. চৌধুরী যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তৃব্য রাখেন দলের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, কেন্দ্রীয় নেতা শাহ আহাম্মেদ বাদল, আজিজ আখন্দ, জানে আলম হাওলাদার, মাহফুজুর রহমান, বিএম নিজাম প্রমুখ।
/এসটিএস/এমএনএইচ/