প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি প্রস্তুত করতে এ যৌথ সভার আয়োজন করা হয়।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, জন কেরি আমাদের শিক্ষা দেন, শেখ হাসিনাকে ফোন করে বলেন, তাদের নাগরিক ও বন্ধু জুলহাজ মান্নানের হত্যাকাণ্ডের বিচার করুন। তিনি বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সময়, বিশ্বের জঘন্যতম ওই হত্যাকাণ্ড, যেখানে মা-শিশুকে হত্যা করা হয়েছিল নির্মমভাবে; তখন জন কেরিরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশে খুনের রাজনীতির ইন্ধন দিয়েছিল।
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আজকেও আমেরিকায় অবস্থান করছেন বঙ্গবন্ধুর ৩ জন খুনি, কিন্তু আপনারা তাদের এখনও হস্তান্তর করছেন না। তাদের রাজনীতি হচ্ছে বাংলাদেশ যেন সামনে এগিয়ে যেতে না পারে। তাদের রাজনীতি হচ্ছে যেন বাংলাদেশে গণতন্ত্র অব্যাহত না থাকে। তারা বঙ্গবন্ধুকে বিপর্যস্ত করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য সবকিছু করতে পারেন।
আরও পড়তে পারেন: সিসিটিভি ফুটেজ ও খুনিদের ফেলে যাওয়া ব্যাগই গোয়েন্দাদের ভরসা
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, জুলহাজের খুনিরা যেই হোক না কেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তাদের খুঁজে বের করবই। তাদের বিচার করব। কিন্তু দেশের জনগণকে বলব, ষড়যন্ত্রকারীদের কোনওভাবেই উৎসাহিত করবেন না। কারণ আমরা হত্যার ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করি না, সে রাজনীতি বঙ্গবন্ধুও করেননি, শেখ হাসিনাও করেন না। আর বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন কোনওভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। যে যেখানেই কোনও ষড়যন্ত্র দেখবেন, সঙ্গে-সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাবেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য আরও বলেন, কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের একজন নেতাকেও হত্যা করা হয়েছে। জন কেরিরা সে কথা বলেন না। তারা উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেন। এই জন কেরি, যখন কাদের মোল্লার ফাঁসি হয় তখনও প্রধানমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলেছিলেন, ‘ফাঁসি না দিয়ে পারা যায় না’। আমার দেশে গণহত্যা করেছে, তাদের সমর্থনে সুপারিশ করেন কারা? তাদের ৭১-এর ভূমিকা মাথায় রেখে রেখে জনগণ যেন বিভ্রান্ত হয়। তিনি বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বাতিল করতে ব্যর্থ হয়ে প্রথমে মানুষ পোড়ালো। পুলিশ, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ মেরে, সন্ত্রাসী কাযক্রম, জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণে তারা পারেনি। পরে পেট্রোল বোমা হামলা, বিদেশি নাগরিক হত্যা শুরু করে। যেন বিদেশিরা আমাদের ওপর নাখোশ হন, চাপ প্রয়োগ করেন। এখন গুপ্ত হত্যা চালানো হচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবে, দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করতে বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এসব করছে।
আরও পড়তে পারেন: উল্টো পথে গাড়ি: প্রভাবশালীদের কাছে অসহায় পুলিশ
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, এ পর্যন্ত যতগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবগুলোর বিচার আমরা করেছি, আমাদের দলের কেউ হলেও বিচার করা হয়েছে। জগন্নাথের ছাত্রলীগ কর্মীদেরও ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দমনে আমরা জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছি, যে কেউই হোক অপরাধী, তার বিচার হবে।
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের তিনযুগ হচ্ছে এবার। আমরা আগামী ১৭ মে নেত্রীকে অভ্যর্থনা দেব। ওইদিন বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।
/পিএইচসি/এমএনএইচ/