ক্ষমতাসীন দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচন করবে, নাকি ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী দেবে, তা নির্ভর করছে বিএনপির নির্বাচনি সিদ্ধান্তের ওপর। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে ১৪ দলীয় জোট ও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে যে মহাজোট গঠন করা হয়েছিল, আগামীতেও সেভাবেই এগিয়ে যাবে আওয়ামী লীগ।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া নিয়ে বিএনপির অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয় বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের ভাষ্য, বিএনপির সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় আওয়ামী লীগ জোটগতভাবে নির্বাচনে যাবে, না আলাদা নির্বাচন করবে, তা চূড়ান্ত করতে পারেনি। এছাড়া জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করবে—এমন ঘোষণা মাঝে মাঝে দিলেও তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় বলে জানান ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা। তারা জানান, জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন রকমের বক্তব্য দিলেও শেষপর্যন্ত নিজেদের স্বার্থেই আওয়ামী লীগের ইঙ্গিতেই চলবে।
সূত্র জানায়, নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। বিষয়টি নিশ্চিত হলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি হিসাব কষতে সুবিধা হবে বলে মনে করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবে, না দলীয়ভাবে প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ, তা ঠিক করা হবে বিএনপির সিদ্ধান্ত জানার পরই।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার জানামতে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে আমরা উপনীত হতে পারেনি। তিনি বলেন, এসব বিষয় আরও পরে সিদ্ধান্ত হবে। কারণ নির্বাচনের এখনও অনেক দিন বাকি আছে।’
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘১৪ দল আমাদের আদর্শিক জোট। তাই ভালোমন্দ সবকিছুই এই জোটের সঙ্গে মিলিয়েই করবে আওয়ামী লীগ।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি জোটে যারা ছিল, তাদের নিয়ে আগামীতে কী হবে, সেই পরিকল্পনা এখনও নেওয়া হয়নি।’
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচনের অনেক দেরি। এখনই কিভাবে নির্বাচন হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়নি।’
/এমএনএইচ/