কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমান দিতে পারবেন বলে আশা করছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাজী জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথম এই বৈঠকে ডাকা হয়েছে সদ্য অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত পরাজিত দুই প্রার্থীকে। এই দুই প্রার্থীর কাছে পরাজয়ের কারণগুলো জেনে নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এরপর তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি পরাজয়ের জন্য দায়ীদের বুধবার ডেকে কথা বলবে। তারই আলোকে আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে।’
কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘৭ এপ্রিল থেকেই সারাদেশের দলীয় কোন্দলের কারণ অনুসন্ধান করতে কাজ করবে কমিটি। ওইদিন দলের আট বিভাগের দায়িত্বে থাকা দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সারাদেশের সবচেয়ে বেশি কোন্দলপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে ওইসব এলাকার নেতাদের ঢাকায় তলব করা হবে। তৃণমূলের ওইসব নেতার সঙ্গে কথা বলে কোন্দল মীমাংসায় চেষ্টার পাশাপাশি তাদের থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে কমিটি। ওই সব তথ্য পর্যালোচনা করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে রিপোর্ট জমা দেবে।’
জানতে চাইলে কমিটির অন্য সদস্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘দ্বন্দ্ব-কোন্দল অনুসন্ধানে আমরা কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে জমা দিতে পারবো।’
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের ভরাডুবি, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে দল-মনোনীত প্রার্থীদের পরাজয় ও সারা দেশের কোন্দলের কারণ অনুসন্ধানে গত শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বসম্মতিক্রমে ৫ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।