বি. চৌধুরী-ড. কামাল-মান্নার জোটগঠন-প্রক্রিয়ায় সঙ্গে জড়িতদের প্রাথমিক বক্তব্য-বিবৃতিতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ রয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলছেন, সরকারবিরোধী এই নেতারা সংসদ মানেন না, নির্বাচন কমিশন মানেন না, সরকার মানেন না। এতেই প্রমাণি হয়, তারা ‘ষড়যন্ত্র’ বাস্তবায়নের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। জনগণ এই জোটগঠন-প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে না।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোটগঠন নিয়ে ব্যস্ত নেতারা রাজনীতি ও জনগণ থেকে ছিটকেপড়া। তাদের তৎপরতা ষড়যন্ত্রের। ফলে তারা সফল হবেন না।’ তিনি বলেন, ‘জোটগঠন প্রক্রিয়া আসলে সরকারের বিরুদ্ধে, সংসদের বিরুদ্ধে ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। তাদের অভিপ্রায় বিচার করলে দেখা যায়, তারা অসাংবিধানিক তৎপরতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।’
ক্ষমতাসীন দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলে আসছেন। সরকারবিরোধী জোটগঠনের এই তৎপরতা যদি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে হয়ে থাকে, তবে সেই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাবে আওয়ামী লীগ। আর যদি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের হয়ে থাকে, তাহলে চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘নির্বাচন এলে সবসময় দেখা যায়, জোটগঠনের তৎপরতা শুরু হয়। যারা এই তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তারা জনগণ থেকে বিচ্যুত।’তিনি বলেন, জোটগঠন যদি সুস্থ মানসিকতা নিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে হয়, তাহলে সাধুবাদ জানাবো। আর যদি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের তৎপরতা হয়, তাহলে অবশ্যই তারা জনগণের সমর্থন পাবে না।’
মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘জোটগঠন-প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য জানতে আওয়ামী লীগ আরও পর্যবেক্ষণ করবে। ভালোমন্দ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জোটগঠন-প্রক্রিয়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে গঠিত হলে তাকে সাধুবাদ জানানো কথা বললেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে জোটগঠন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই তৎপরতা আওয়ামী লীগ আরও পর্যবেক্ষণ করবে। তারপর ব্যবস্থা।’