হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন পুলিশের মামলা নিয়ে কথা বলেন। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দেশের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর ওপর যে গ্রেনেড হামলা হলো, তা নিয়ে তিনি কোনও কথা বলেন না কেন?’
ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনি কথায় কথায় মানবাধিকারের কথা বলেন কিন্তু যারা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করেছে, যারা রাজনীতির নামে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, দিনের পর দিন জনগণকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে, তাদের সঙ্গে আপনি ঐক্য করছেন। এতে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও জঙ্গী গোষ্ঠীর প্রধান পৃষ্টপোষক হচ্ছে বিএনপি। আর তাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরী।’
২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার একজন ভিকটিম ও মামলার সাক্ষী হিসেবে এই হামলার সঙ্গে যুক্ত তারেক রহমান, বাবরসহ প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সরকার প্রধানের জ্ঞাতসারেই হয়েছে। বিএনপি নেতারা দেশে বিদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা বক্তব্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে এই গ্রেনেড হামলার মামলা থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, এটি ঠিক নয়। খালেদা জিয়া যদি জড়িতই না থাকতেন, তাহলে এই মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা কেন করলেন? সুতরাং এই মামলার বিচারের আওতায় খালেদা জিয়াকেও আনা প্রয়োজন। যদি এই মামলায় খালেদা জিয়ার শাস্তি না হয় রাষ্ট্র পক্ষকে অনুরোধ জানাবো এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য। ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য অন্যায়ের প্রতিকার করতে হয় এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার স্বার্থেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক, বাবরসহ বেগম জিয়ারও বিচার হওয়া প্রয়োজন।’
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা কি দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবো, নাকি যারা গ্রেনেড হামলা চালায়, পেট্টোল বোমা হামলা চালায়, জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্টোল ঢেলে দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে এবং যারা দেশের অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে না, তাদের হাতে ক্ষমতা ও দেশের পতাকা তুলে দেবো?’ জনগণ অবশ্যই সঠিক রায় দেবে, যদি গতদশ বছরে দেশের বদলে যাওয়ার চিত্র। এই বর্ণচোরাদের আসল চরিত্র ও লক্ষ্য সঠিকভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারি।’
সংগঠনের সহ-সভাপতি চিত্রনায়িকা নতুনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিচারপতি সামশুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, বাংলাদেশ ফেড়ারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।